
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর
সীমান্তবর্তী জেলা যশোরে গত এক বছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৬) ও জেলা পুলিশের যৌথ ও পৃথক অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকবিরোধী এসব অভিযানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু অপরাধীকে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়েছে।
র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে একটি প্রাইভেটকার থেকে ৭০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল (উইনকোরেক্স) উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গাড়ির চালক আলী রেজাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে ও পরে বিভিন্ন সময়ে র্যাব ও পুলিশ যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও পলাতক মাদকচক্রের সদস্যদের আটক করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে মাদক কারবারিদের তৎপরতা অনেকটাই সীমিত হয়েছে।
বাঘারপাড়া উপজেলার জয়রামপুর এলাকায় র্যাবের বিশেষ অভিযানে ১৪টি ককটেল বোমা ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় জামাল সরদার নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কেশবপুর উপজেলায় সেনাবাহিনী ও যৌথ বাহিনীর অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, ধারালো অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন পলাশসহ চারজনকে আটক করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া যশোর শহরের চাঁচড়া মাছের বাজার এলাকায় র্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে একটি মাদক মামলার আসামি মুরাদের কাছ থেকে ধারালো ছুরি, একটি অ্যামুনিশন ও বিস্ফোরক সামগ্রী জব্দ করেন। তাকেও আটক করে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত এক বছরে র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে দবলমেয়াদে যানবাহন তল্লাশি, সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল জব্দ এবং তিন হাজারের বেশি মামলার তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে। এসব অভিযানের অংশ হিসেবে নিয়মিত চেকপোস্ট, বিশেষ নজরদারি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মাদক ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মাদক কারবারে জড়িত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় যশোরে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পাচারের ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অস্ত্র সহজে প্রবেশের আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ জন্য ভবিষ্যতে আরও জোরদার নজরদারি, সমন্বিত অভিযান ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির ফলে স্থানীয় অপরাধজগৎ স্বস্তিতে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে না। মাদক ও অস্ত্রসহ বিপজ্জনক অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও আটক করায় সমাজে অপরাধের মাত্রা কমাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যশোরে গত এক বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ও কৌশলগত অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে জেলা আরও নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।