
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগরে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে নালিশ মামলা করেছেন নিহতের ভাই মো. কামাল হোসেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, নিহত আজিজ সরদার অভয়নগর এলাকায় মালামাল তৈরি ও বিক্রির মাধ্যমে পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার ব্যবসা ভালোভাবে চলায় আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হতো।
বাদীর অভিযোগ, গত কয়েক মাসে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসামিরা কয়েক দফায় ৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করে। সর্বশেষ ঘটনার ১০–১২ দিন আগে আবারও ১০ হাজার টাকা নেওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে ৫ লাখ টাকা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সংঘবদ্ধভাবে ৪–৫ জন ব্যক্তি আজিজ সরদারের বাড়ির সামনে এসে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। এ সময় দ্বিতীয় আসামি মো. ফিরোজ খান (টুটুল) পকেট থেকে পিস্তল বের করে আজিজ সরদারের মাথায় ঠেকিয়ে ভয় দেখান। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রথম আসামি মো. আব্দুস সালাম তাকে বুকে ও পেটে একের পর এক ঘুষি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় আজিজ সরদার স্থানীয় একটি বেকারির ভেতরে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠান। পরে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এ কারণে মামলা দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়। এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৮৫/ ৩৮৬/ ৩০২/ ৩৪/ ১০৯ ধারায় মামলা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে। আদালতের কাছে আসামিদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করারও আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভয়নগর থানার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আদালতের নির্দেশ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, মামলার বাদির সাথে ২ নং আসামি ফিরোজ খানের পূর্ব শত্রুতার কারণে তাকে এই হত্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তিরা নিশ্চিত করেছেন। এবিষয়ে ২ নং আসামি ফিরোজ খান বলেন, নিহত আজিজ সরদারের সাথে আমার কখনো কোন ঝামেলা হয়নি বা তিনি যেদিন মারা গেছে আমি ওই ঘটনা স্থানে ছিলাম না, ওই মামলার বাদির সাথে আমার জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ঝামেলা চলে আসছে। যে কারণে বাদি ইচ্ছাকৃত ভাবে আমার নাম জড়িয়ে ওই মামলা করেছেন।