
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর
যশোরের অভয়নগরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক স্কুল শিক্ষক ও দন্ত চিকিৎসকের ওপর নৃশংস হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইকবাল হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি আর্মি ক্যাম্পেও অবগত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষক ও দন্ত চিকিৎসক মো. মতিউর রহমান (৫০) জানান, তিনি নওয়াপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং আদিলপুর খেয়াঘাট বাজারে গাজী ডেন্টাল নামে একটি চিকিৎসালয় পরিচালনা করছেন। তার দাবি, অভয়নগরের বিভাগদী কন্দনপুর মৌজায় তাদের পৈতৃক ৪৫ শতক জমি রয়েছে, যা তার পিতা গোলাম রসুল গাজী ১৯৯৩ সালে ক্রয় করে ভোগদখলে ছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি ওয়ারিশসূত্রে জমিটির মালিক হন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রায় ছয় মাস আগে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন এবং প্রতিবাদ করায় তাকে বারবার হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও দখলদাররা জমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে হেলাল সরদার, সঞ্জয় সেন, এহসানুল হক খোকনসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ক্লিনিকে ঢুকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, লোহার রডের আঘাতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয়, নাকে ও কানে রক্তপাত শুরু হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখমের সৃষ্টি হয়। পরে তাকে বাইরে টেনে এনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠার পর তিনি গত ২২ নভেম্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভয়নগর থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমি সংক্রান্ত জের ধরে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। একসঙ্গে বসলে মীমাংসা হয়ে যাবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি করে আসছে। হামলার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এ বিষয়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তৈয়বুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছি।