
নিজস্ব প্রতিবেদক
পাবনার ঈশ্বরদীতে থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার ভাড়া বাসায় সংঘটিত হয়েছে দুঃসাহসিক ও অভিনব কায়দার চুরি। এক্সিট ফ্যান ভেঙে শিশুকে ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ আনুমানিক ছয় লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার রাতে শহরের শেরশাহ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। চুরির শিকার হয়েছেন ঈশ্বরদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুজ্জামান। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী উপ-পরিদর্শক মো. শরিফুজ্জামান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশেষ প্রয়োজনে তিনি স্ত্রীসহ বাসা তালাবদ্ধ করে বাইরে যান। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাসায় ফিরে এসে দেখেন ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, রান্নাঘরের এক্সিট ফ্যান ভেঙে দুর্বৃত্তরা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ভাঙা ফ্যানের অংশ দিয়ে একটি শিশুকে ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে চুরির ঘটনা ঘটানো হয়। এ সময় বাসার ওয়ারড্রব ও আলমিরা থেকে প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার, ছয় ভরি রূপা, একটি ডায়মন্ডের নাকফুল, নগদ দুই লাখ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ছয় লাখ টাকা বলে জানান তিনি।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় এ ধরনের চুরির ঘটনা আমাদেরকেও বিস্মিত করেছে। রান্নাঘরের এক্সিট ফ্যান ভেঙে অল্প জায়গা দিয়ে শিশুকে ঢুকিয়ে চুরি করার কৌশলটি অভিনব ও বিরল। চোরদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এদিকে, পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় সংঘটিত এই চুরির ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে।