
অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতা। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের ভেতর এই গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর পিটিআই সমর্থকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যা মুহূর্তেই দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
ইমরান খানের তিন বোন অভিযোগ করেছেন, বারবার সাক্ষাতের আবেদন করলেও কারাগার কর্তৃপক্ষ তাদের অনুমতি দিচ্ছে না। এমনকি কারাগারের সামনে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলে পুলিশের হাতে তারা নাকি মারধরের শিকার হন। বিষয়টি সামনে আসতেই কারাগারের বাইরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আদিয়ালা কারাগার ঘিরে হাজার হাজার পিটিআই সমর্থক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
এই অবস্থায় পরিস্থিতি শান্ত করতে আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়। গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা স্পষ্ট জানায়—ইমরান খান কারাগারেই আছেন, মারা যাওয়ার বা তাকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার গুজব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরান খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সেনাবাহিনী সদর দফতরে হামলা, রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ফাঁসসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। ২০২৩ সালে নাটকীয় গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি আগস্ট ২০২৩ থেকে কারাগারে আছেন। এদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দাবি করেছেন, কারাগারে ইমরান খানকে ‘সর্বোচ্চ সুবিধা’ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ইমরান খানের জন্য যে খাবার সরবরাহ করা হয় তার মান পাঁচ তারকা হোটেলের খাবারের চেয়ে কম নয়। তাঁর কক্ষে টেলিভিশন আছে, যেখানে তিনি ইচ্ছেমতো যে কোনো চ্যানেল দেখতে পারেন। ব্যায়ামের জন্য রয়েছে জিমের সরঞ্জাম এবং আরামদায়ক ডাবল বেডও দেওয়া হয়েছে। ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে নানা গুজব এবং উত্তেজনার মধ্যেও সরকারি কর্তৃপক্ষের এই ব্যাখ্যা পরিস্থিতিকে সাময়িকভাবে স্থিতিশীল করেছে। তবে পিটিআই সমর্থকদের ক্ষোভ ও উদ্বেগ এখনও প্রশমিত হয়নি।