
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে চুরির অভিযোগ তুলে এক যুবককে প্রকাশ্যে অপদস্থ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কালিশংকরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর সূত্র ধরে বিষয়টি সামনে আসে।
নির্যাতনের শিকার যুবকের নাম রসুল আলী (২৮)। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।
গ্রামবাসীর দাবি, শুক্রবার গভীর রাতে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক এনামুল হকের বাড়িতে গরু চুরির চেষ্টা করেন রসুল আলী। পরিবারের লোকজন টের পেয়ে গেলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। পরদিন বিকেল তিনটার দিকে সালিশের নামে তাকে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ডেকে নেওয়া হয়।
সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি প্রথমে তাকে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর করেন। এরপর মাটিতে শুইয়ে নাকে খত দিতে দিতে গ্রাম ঘোরানো হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রামের লোকজন দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখছে, আর কয়েকজন ব্যক্তি চিৎকার করে বলছে এই বিচারের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। একপর্যায়ে রসুলকে উঠিয়ে তিনবার কান ধরে উঠবস করানো হয় এবং পরে ধাক্কা মেরে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভিডিওতে নাক ঘষিয়ে ঘোরানো ওই ব্যক্তির নাম সিরাজুল ইসলাম, যিনি ভায়না ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। ঘটনা স্বীকার করে তিনি বলেন,
পুলিশে দিলে ছেলেটার বড় ক্ষতি হতো। গ্রামের লোকজন তো হাত-পা ভেঙে দিতে চাইছিল। আমি দেখলাম এত বড় ক্ষতি করার দরকার নেই, তাই মাত্র দশ হাত নাকে খত দিয়ে ছেড়ে দিয়েছি।”
পল্লী চিকিৎসক এনামুল হক দাবি করেন, রসুল গরু চুরি করতে তার বাড়িতে ঢুকেছিল। পরে গ্রামের মাতব্বরদের তিনি বিচার দেন। অভিযুক্তের বাবা তার কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছিলেন বলেও জানান তিনি।
ঘটনা সম্পর্কে রসুলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার বাবা আব্দুল মান্নান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। যুবক রসুলকেও বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
ভায়না ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা তুষার বলেন,
এমন একটি ঘটনার কথা শুনেছি। এর বাইরে আপাতত কিছু বলতে পারছি না। এবিষয়ে
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, আইন বহির্ভূত এমন সালিশ করার অধিকার কারও নেই। ভুক্তভোগী পরিবার এখনো অভিযোগ দেয়নি। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।