1. live@www.jagrotobd.com : Red Line : রেড লাইন Red Line
  2. info@www.jagrotobd.com : দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ :
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যশোরে ভারতীয় অস্ত্রের বড় চালান উদ্ধার: পাঁচ পিস্তল-গুলিসহ যুবক আটক অভয়নগরে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল, নেতাকর্মীদের ঢল খুলনা আদালত গেটের সামনে দিনে-দুপুরে গুলি ও কুপিয়ে দুই যুবককে হত্যা বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ আয়ু সুস্থতা কামনা করে পটিয়ায় যুবদলের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জিবন-এর এনওয়াইপিডিতে কর্নরতদের পদোন্নতি উদযাপন ও প্যানেল সমর্থন ঘোষণা ১-১২ তম নিবন্ধন ধারীদের পাশে দাড়ালেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান পটিয়ায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল দিলেন এয়াকুব আলী: চার শতাধিক পরিবারের মুখে হাসি কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির আয়োজনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত বাঘা শাহদৌলা সরকারি ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা! একই দিনে শ্রীমঙ্গলে দুই স্থানে অজগর উদ্ধার, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের দ্রুত তৎপরতা

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরল, গণতন্ত্র কি ফিরবে

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। গণতন্ত্রের তাত্ত্বিক কাঠামোয় এই ব্যবস্থা স্বাভাবিক নয়—বরং ব্যতিক্রম। যে দেশে রাজনৈতিক শক্তিগুলো ন্যূনতম আস্থা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে নির্বাচন আয়োজন করতে পারে, সেখানে একটি অরাজনৈতিক নির্বাচন সরকার গঠনের প্রয়োজন পড়ে না। তবু বাস্তবতার চাপ, রাজনৈতিক অবিশ্বাস এবং সংঘাতমুখী সংস্কৃতি বাংলাদেশকে বহুবার এই ব্যবস্থার দ্বারস্থ করেছে; অনেকে, অনিচ্ছাসত্ত্বেও, এটিকে ‘মন্দের ভালো’ হিসেবেই দেখেন।

সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। তবে এর তাৎক্ষণিক প্রয়োগ নেই; আগামী সাধারণ নির্বাচন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ জনগণকে আবারও অপেক্ষা করতে হবে নতুন সংসদ বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত। এই বিলম্ব রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে—গণতন্ত্রের পথ কি অবশেষে প্রশস্ত হচ্ছে, নাকি বিচারিক সিদ্ধান্ত আরেকটি অনিশ্চয়তার সূচনা করবে?

অতীতে চারটি মোটামুটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। সে নির্বাচনগুলোর ফল জনগণ মেনে নিলেও রাজনৈতিক দলগুলো তা মেনে নেয়নি। বিজয়ীরা বিরোধী কণ্ঠ উপেক্ষা করেছে, আর পরাজিতরা সংসদ বর্জনকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক আচরণে পরিণত করেছে। গণতান্ত্রিক অনুশীলনের এই বঞ্চনা শেষ পর্যন্ত পাঁচ বছরব্যাপী শাসনকালকে প্রায় স্বেচ্ছাচারী রূপ দিয়েছে। তিন মাসের একটি অন্তর্বর্তী নির্বাচন সরকার সেই পাঁচ বছরের সঞ্চিত ক্ষত—দুর্নীতি, দলীয়করণ, প্রশাসনিক পক্ষপাত—মুছতে পারবে না; এটি এক কঠোর বাস্তবতা।

বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক ধারণার শিকড় গভীর। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের নেতৃত্বে প্রথম অন্তর্বর্তী সরকার দেশের রাজনৈতিক বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে নির্বাচন আয়োজন করেছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল আন্দোলনের মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংশোধনীর জন্ম দেয়। কিন্তু জনমতের দাবিতে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যবস্থা বাতিল হয়েছিল কোনো গণভোটে নয়—রাষ্ট্রক্ষমতার ইচ্ছায় এবং সর্বোচ্চ আদালতের একটি বিতর্কিত রায়ে। বিচারপতি খায়রুল হকের সংক্ষিপ্ত রায় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে সময়সীমার শর্তে গ্রহণযোগ্য বললেও পূর্ণাঙ্গ রায়ে সেই সুযোগও তুলে নেওয়া হয়েছিল। ফলে কার্যত ২০১৪ থেকে ২০২৪—তিনটি নির্বাচনই জনগণ নয়, রাষ্ট্রক্ষমতার সুবিধা রক্ষা করেছে।

ইতিহাসের চাকা আবার ঘুরে এসেছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ছোট-বড় বিভিন্ন দল পুনর্বহাল সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। এমনকি যাঁরা আজ নিষিদ্ধ বা পলাতক, তারাও এখন তত্ত্বাবধায়কের আশ্রয় খুঁজছেন। রাজনীতির এই পরিহাসই বলে দেয়—ক্ষমতায় থাকলে তত্ত্বাবধায়ক ‘অপ্রয়োজনীয়’, ক্ষমতার বাইরে থাকলে ‘গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ’। অথচ অন্তর্বর্তী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত চারটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় এসেছে। কেউ নির্মূল হয়নি, কেউ বাদ পড়েনি। কিন্তু ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের পর যে পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল—বিনা ভোটের নির্বাচন, রাতের ভোট, প্রার্থীহীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সেই পথেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বড় ক্ষতির মুখে পড়ে।

এখন প্রশ্ন—তত্ত্বাবধায়ক ফিরলেই কি গণতন্ত্র ফিরবে? উত্তর সহজ নয়। নির্বাচন পরিচালনার কাঠামো যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি রাজনৈতিক মানসিকতা। নির্বাচনের পর পাঁচ বছরের সময়টিই গণতন্ত্রের ভাগ্য নির্ধারণ করে—আইন প্রণয়ন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা কতটা সম্মান পাবে, প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষ থাকবে, এবং ক্ষমতাসীন দল কতটা ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে বিরত থাকতে পারবে—এই জায়গাগুলো পরিবর্তন না হলে তিন মাসের একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন সরকার কেবল একটি নিরপেক্ষ ভোটই দিতে পারবে, গণতন্ত্র নয়।

আজ যে সিদ্ধান্তে বিচার বিভাগ তত্ত্বাবধায়ককে পুনরায় সংবিধানসম্মত করেছে, তা নিঃসন্দেহে দেশের রাজনৈতিক আস্থাহীনতার প্রতিফলন। কিন্তু এটি সমাধানের শেষ কথা নয়। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার নৈতিক দায়িত্ব রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপরেই। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাও একসময় আবার বাতিল হতে পারে—ক্ষমতার প্রয়োজনেই।

রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে, এই সুযোগকে ‘ক্ষমতায় ফেরার সিঁড়ি’ হিসেবে নয়, বরং গণতন্ত্রের ভাঙা সেতু পুনর্গঠনের দায়বদ্ধতা হিসেবে দেখা। নইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে এলেও গণতন্ত্র ফিরবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতের উপরই ঝুলে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট