
বিশেষ প্রতিনিধি
“সরকারি নির্দেশনা অমান্য: অভয়নগরে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সেবা বিপর্যয়” শিরোনামে জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে গত ২৯ নভেম্বর একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। উল্লেখ্য, গত ২৮ নভেম্বর অভয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী দুপুর ৩টার আগেই অফিসে তালা ঝুলিয়ে বাড়ি চলে যান। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম এর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে অফিসের হিসাবরক্ষক মো. জিয়াউল হক ও গার্ড মো. আইয়ুব আলী এর সাথে যোগাযোগ করলে তারা উভয়েই বাসায় থাকার কথা স্বীকার করেন। পরের দিন ২৯ নভেম্বর সকালেও অফিসে গিয়ে দেখা যায়, দায়িত্বশীল কেউ উপস্থিত নেই। একাডেমিক সুপারভাইজার মোছা. আছমা খানম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি অসুস্থ থাকায় ছুটিতে আছেন। কিন্তু পরে একটি সূত্র জানায়, ওই দিনই তিনি অফিসে আসেন।
ওই দিন হিসাবরক্ষক জিয়াউল হক তার স্ত্রীকে নিয়ে খুলনায় চিকিৎসা করাতে গেছেন বলে জানান গার্ড আইয়ুব আলী। অন্যদিকে অফিস সহায়ক সোহাগ হোসেন সকাল ১১টা পর্যন্তও অফিসে আসেননি। মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে জানান, বাড়িতে আছেন; পরে বলেন, নওয়াপাড়া বাজারে। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তার সাথে অফিসে দেখা করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে যশোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল হোসেন বলেন, “সময় শেষ হওয়ার আগে অফিস বন্ধের বিষয়ে আমার জানা নেই। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেন, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, খুলনা বিভাগ মো. কামরুজ্জামান বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এর আগে অফিস বন্ধের কোনো সুযোগ নেই। আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি; খুলনায় ফিরে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপু বলেন, “এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদটি আমার নজরে এসেছে। বিষয়টি শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।”