
➤ ডিএপি সার: ‘বাল্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’কে মিশর থেকে ৮৭৪ ডলার টন দরে এবং চীন থেকে ৮৪৮ ডলারে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
➤ এনআরকে হোল্ডিংকেও একই দরে চীন থেকে সার আমদানির অনুমতি।
➤ টিএসপি সার: ‘দেশ ট্রেডিং কর্পোরেশন’কে মরক্কো থেকে ৬৯৪ ও লেবানন থেকে ৬৮৮ ডলারে কার্যাদেশ।
➤ একই সময়ে, একই উৎস, একই মানের সার কিন্তু দাম ভিন্ন! প্রশ্ন একটাই কার পকেটে গেল এই অতিরিক্ত ডলার ?
দেশের সার আমদানিতে ভয়াবহ দুর্নীতি, কোটি কোটি টাকার অনিয়ম এবং সেই খবর প্রকাশের পর সাংবাদিকদের হুমকি এই বিস্ফোরক পরিস্থিতিতে কৃষি সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে সাংবাদিক সমাজ। গত ১৬ সেপ্টেম্বর
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘বৈষম্যবিরোধী সাংবাদিক সমাজ’-এর ব্যানারে সাংবাদিকদের বিক্ষোভে একটাই স্লোগান দুর্নীতিবাজ আমলার বিচার চাই, সাংবাদিকের নিরাপত্তা চাই।
সভায় বক্তারা এমদাদ উল্লাহ মিয়ানকে “আওয়ামী আমলের লালিত দোসর আমলা” আখ্যা দিয়ে বলেন সরকারের পরিবর্তন হলেও প্রশাসনে রয়ে গেছে পুরনো দুর্নীতির শেকড়। এই আমলারা এখনো ক্ষমতার ছায়ায় থেকে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে, যেন দেশ তাদের বাপের সম্পত্তি।
বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক জাকির হোসেন, পরিচালনা করেন এস এম তাজুল ইসলাম। বক্তব্য দেন বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের রাজু আহমেদ, সাবেক সদস্য এইচ এম আল আমিন, সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ মাসুদ, নুরুল হক কাইউম, হুমায়ুন কবির, এইচ আর শফিক, মতিউর রহমান সরদার, কাজী আবির আসলাম, আলী আশরাফ আকন্দসহ বহু গণমাধ্যম কর্মী।
বক্তারা ক্ষোভে বলেন সংবাদ প্রকাশের পর কৃষি সচিব সাংবাদিকদের ফোনে অশালীন ভাষায় হুমকি দিয়েছেন, যেন রাষ্ট্র তার ব্যক্তিগত কোম্পানি! সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে এই হুমকি এটা শুধু নিন্দনীয় নয়, সরাসরি রাষ্ট্রবিরোধী কাজ।
সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের সময়, আজকের পত্রিকা, ঢাকা টাইমস ও নয়া দিগন্তসহ একাধিক জাতীয় দৈনিক সার আমদানিতে ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করে। প্রবাসী অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান (সামি) ফেসবুকে প্রকাশ করেন বিস্ময়কর তথ্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা দরপত্রের নিয়ম ভেঙে প্রিয়পাত্রদের কোটি কোটি ডলারের কার্যাদেশ দিয়েছেন।
তথ্য বলছে, একই উৎস দেশ থেকে একই মানের সার ভিন্ন দামে কেনা হয়েছে, ডিএপি সার: ‘বাল্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’কে মিশর থেকে ৮৭৪ ডলার টন দরে এবং চীন থেকে ৮৪৮ ডলারে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এনআরকে হোল্ডিংকেও একই দরে চীন থেকে সার আমদানির অনুমতি।, টিএসপি সার: ‘দেশ ট্রেডিং কর্পোরেশন’কে মরক্কো থেকে ৬৯৪ ও লেবানন থেকে ৬৮৮ ডলারে কার্যাদেশ।
একই সময়ে, একই উৎস, একই মানের সার কিন্তু দাম ভিন্ন! প্রশ্ন একটাই কার পকেটে গেল এই অতিরিক্ত ডলার? সামির দাবি, দরপত্র নয়, “নেগোসিয়েশন” বা গোপন সমঝোতার মাধ্যমে এসব কাজ দেওয়া হয় যা দুর্নীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, এই সার কেলেঙ্কারির পেছনে রয়েছে ক্ষমতার চোরাচালানির দল, যারা দেশের কৃষক ও অর্থনীতি দুটোই জিম্মি করে রেখেছে। তাদের একটাই লক্ষ্য, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা এবং আবারও দুর্নীতির বাজার গরম করা।
সাংবাদিক সমাজ সতর্ক বার্তা দেয় সার সংকটের কৃত্রিম নাটক তৈরি করে যদি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বিপন্ন করা হয়, তবে দায় নিতে হবে এমদাদ উল্লাহর মতো দুর্নীতিবাজ আমলাদেরই।
সমাবেশ থেকে তিন দফা আলটিমেটাম ঘোষণা করা হয়:
১. কৃষি সচিব এমদাদ উল্লাহর অবিলম্বে অপসারণ,
২. সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ফৌজদারি মামলা ও বিচার,
৩. সার আমদানির দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন।
বক্তারা আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার পতন হয়েছে, কিন্তু এমদাদ উল্লাহর মতো দোসররা এখনো বহাল তবিয়তে থেকে রাষ্ট্রের সম্পদ লুটছে। আমরা সাংবাদিক সমাজ আর চুপ করে থাকব না এবার দুর্নীতিবাজদের মুখোশ খুলব, নাম ধরে ধরে।
সচেতন মহল বলছে, দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দাপটে এমদাদ উল্লাহ এখন কোটি টাকার সম্পদের মালিক। বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, বিদেশে বিনিয়োগ সবই দুর্নীতির টাকা দিয়ে। প্রশাসনে এখনো তার প্রভাব এতটাই, যে সাধারণ কর্মকর্তা তার নাম উচ্চারণ করতেও ভয় পায়। সাংবাদিকরা তাই একক কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন দূর্নীতির বিচার হবে, হুমকির রাজনীতি শেষ হবে। রাষ্ট্র কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় জনগণের।