1. live@www.jagrotobd.com : Red Line : রেড লাইন Red Line
  2. info@www.jagrotobd.com : দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ :
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চলন্ত বাসে কলেজছাত্রীকে রাতভর গণধর্ষণ গাজীপুরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নড়াইলের লোহাগড়ায় যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার গ্রেফতার ৪ দাগনভুঁইয়ায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম ১২ (পটিয়া) আসনের  এলডিপি প্রার্থী এয়াকুব আলীর আপিল নামঞ্জুর শর্ত সাপেক্ষে ক্রিকেটে ফিরতে প্রস্তুত কোয়াব মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় যুবককে কুপিয়ে জখম, পিস্তল দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গনতন্ত্র পরিষদের সিলেট জেলা শাখার ৭১ বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ কমিটি গোয়াইনঘাটে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো বাল্যবিবাহ বকেয়া ভাতা তুলতে ঘুস দাবি, বাঁশখালীতে পরিবার পরিকল্পনার অফিস সহকারী গ্রেপ্তার

সংবাদ প্রকাশের জেরে রাজশাহীতে ৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১১৫ বার পড়া হয়েছে

তন্ময় দেবনাথ স্টাফ রিপোর্টার

রাজশাহীতে সংবাদ প্রকাশের জেরে শাহমুখদুম থানার ওসি ও প্রতারক আক্তারুল ইসলামের যোগসাজশে ৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দেওয়া হয়েছে। ওই ছয় সাংবাদিক হলেন, রাজশাহীর আলো পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আজিবার রহমান ও সিনিয়র ফটো সাংবাদিক ফায়সাল আহম্মেদ, আরটিভি’র ক্যামেরাম্যান আরিফুল হক রনি, কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি নাঈম হোসেন, গণমুক্তি পত্রিকার ব্যুরো প্রধান মাজহারুল ইসলাম, আজকের প্রত্যাশা পত্রিকার নাজমুল হক।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে আরএমপি শাহমুখদুম থানা চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনায় সাংবাদিকদের ভুক্তভোগী না মেনে উল্টো এক সপ্তাহ পর প্রতারকের পক্ষে মামলা রেকর্ড করেছে পুলিশ।

গত ২৬ আগস্ট অগ্রণী ব্যাংক রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) শাখায় একটি জমি নিলামকে কেন্দ্র করে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসময় পেশাগত দায়িত্ব পালনে সেখানে পৌঁছান স্থানীয় সাংবাদিকরা। পরে কথিত পত্রিকার মালিক পরিচয় দেওয়া প্রতারক আক্তারের সঙ্গে সাংবাদিকদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আক্তার একজন সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সাংবাদিকরা এ ঘটনায় মামলা করতে চাইলে শাহমুখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ মাছুমা মুস্তারী মামলা না নিয়ে কেবল একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেন। এতে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা ধারাবাহিকভাবে প্রতারক আক্তারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে থাকেন। পরে ওসি’র বিরুদ্ধে নানা গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে প্রতারক আক্তারুল ইসলাম আক্তারকে বাদী করে চাঁদাবাজি মিথ্যা মামলা নেয় ওসি।

সাংবাদিকদের দেওয়া অভিযোগে ওই প্রতারক আক্তারকে গ্রেফতার না করে পুলিশই তাকে দিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করায়। গত ২ সেপ্টেম্বর ভাইরাল হওয়া সেই প্রতারক আক্তারের দায়ের করা মামলা (নম্বর-২/২০২৫) শাহমুখদুম থানায় রেকর্ড করেন ওসি মাছুমা মুস্তারী। মামলায় ৬ জন সাংবাদিকসহ একজন ঠিকাদারকে আসামি করা হয়েছে। ওসি ও প্রতারক আক্তারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের ৬ দিন পর এমন মামলায় রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকরা বিব্রত।

এই বিষয়ে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মোঃ নুরে ইসলাম মিলন তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আমি জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে ওসি মাছুমা মুস্তারির অপসারণসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের নিকট সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।

প্রতারক আক্তার অভিযোগ করেছেন, সাংবাদিকরা তার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার চালানো হয়েছে। অথচ ঘটনার পূর্ণ ভিডিও প্রমাণ হিসেবে সবার কাছে রয়েছে, যা পুলিশও দেখেছে। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার নেপথ্য ঘটনায় ওসি’র নানা অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ। দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ আরএমপিতে কর্মরত ওসি মাছুমা মুস্তারী। অনিয়ম দূর্নীতি, মামলাবানিজ্যসহ মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ আছে ওসির বিরুদ্ধে।

সাংবাদিক সমাজের ক্ষোভ

এই ঘটনায় রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ—সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা গ্রহণ করে পুলিশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করেছে এবং ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনও যৌথভাবে বিবৃতি দিয়ে বলেছেন,
“সংবিধানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। অথচ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেওয়া। সেখানে উল্টো ভুক্তভোগী সাংবাদিকরাই এখন আসামি। এটি শুধু সাংবাদিক সমাজকেই নয়, গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাকেও হুমকির মুখে ফেলছে।”

এ ঘটনায় বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সাংবাদিক
নেতারা।

 

গণমাধ্যম আইন ও স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ

গণমাধ্যমকর্মী সুরক্ষা আইন এবং সংবিধানে থাকা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখানে চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এ ধরনের মামলা গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং সত্য প্রকাশের পথ রুদ্ধ করে দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরএমপি’র মিডিয়া মুখপাত্র গাজিউর রহমানকে (এডিসি) একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কথা বললে আরএমপি’র কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি’র মামলা সম্পর্কে আমি জানি। ঘটনার তদন্ত চলছে। কেউ নির্দোষ হলে তার নাম তদন্ত শেষে বাদ দেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট