
নিজস্ব প্রতিবেদক
কে শপথ পড়াবেন নতুন সংসদ সদস্যদের, সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন কে, রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। নানা অনিশ্চয়তা থাকলেও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের আশা করছেন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকেরা।নির্বাচনে কোনো দল এককভাবে ১৫১টি আসন পেলে সেই দলের প্রধানকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন রাষ্ট্রপতি। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী দলকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে অন্য দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে হবে। কোনো দল বা জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে তৈরি হবে ঝুলন্ত সংসদের পরিস্থিতি। এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাকি ঝুলন্ত সংসদ, দুটো সম্ভাবনাই আলোচনায় আছে।
গণভোট ও জুলাই সনদ
নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে গণভোট। আলাদা ব্যালটে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেবেন। হ্যাঁ জিতলে আগামী সংসদকে ৯ মাসের মধ্যে ৮৪ দফার সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। না জিতলে সনদটি বাতিল হয়ে যাবে।
ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন
জুলাই সনদ কার্যকর হলে জরুরি অবস্থা জারিতে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে এবং মৌলিক অধিকার স্থগিত করা যাবে না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদের উভয় কক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটে। এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ, অর্থাৎ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতির নিয়োগক্ষমতা ও ক্ষমা প্রদানের ক্ষেত্রেও নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে হবে আপিল বিভাগ থেকে।
সংসদ ও নির্বাচন ব্যবস্থা
জুলাই সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব রয়েছে। উচ্চকক্ষে ১০০ সদস্য থাকবেন, যাঁরা দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে নির্বাচিত হবেন। নারীদের সংরক্ষিত আসন বাড়িয়ে ১০০ করার প্রস্তাবও রয়েছে। ডেপুটি স্পিকার হবেন বিরোধী দলের সদস্য। নির্বাচন কমিশন গঠন হবে স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে। সংসদীয় সীমানা নির্ধারণে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যুক্ত হবে বিশেষজ্ঞ কমিটি।
আইন ও প্রশাসনিক সংস্কার
সংবিধান সংশোধনের বাইরে ৩৭টি সংস্কার বাস্তবায়ন হবে আইন, অধ্যাদেশ ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে। বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন ও সরকারি কর্ম কমিশন সংস্কারের পাশাপাশি কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে দুটি নতুন প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের ফল যাই হোক না কেন, নতুন সংসদ ও সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়ন।