প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৬, ৫:২২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ৩০, ২০২৬, ১:০২ পি.এম
নওয়াপাড়ায় রিজিয়া (প্রাঃ) হাসপাতালে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুকে হাসপাতাল কর্মচারীর যোগসাজশে বিক্রি
যোগসাজশে কোলের শিশু বিক্রি, পরে ‘মৃত’ ঘোষণার নাটক করে ১ লক্ষ ৬০ হাজারে বিক্রি
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় অবস্থিত রিজিয়া (প্রাঃ) হাসপাতালে সদ্য জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে বিক্রি করে দেওয়ার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, কর্মচারী ও একটি সংঘবদ্ধ শিশুবিক্রি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের কেফায়েত নগর মাঠপাড়া গ্রামের আবুল শেখ মিস্ত্রির মেয়ে ও মো. টুটুলের স্ত্রী মারুফা খাতুন (৩৬) সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য নওয়াপাড়া রিজিয়া (প্রাঃ) হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্ট্রার অনুযায়ী, তার সিরিয়াল নম্বর ছিল ১৯৯২ এবং একই দিন সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি সুস্থ পুত্রসন্তান জন্ম নেয়।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, জন্মের কিছু সময় পর হাসপাতালের নার্স ও কর্মচারীদের সহযোগিতায় রহিমা বেগম ও রতনা নামের দুই নারী কৌশলে নবজাতককে মারুফা খাতুনের কোল থেকে সরিয়ে নেয়। পরে শিশুটিকে ঢাকায় একটি শিশুবিক্রি চক্রের কাছে এক লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। শিশুটিকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা শিশুটি অপারেশনের পর মারা গেছে বলে প্রচার চালায়। অথচ ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা শিশুর মৃত্যুর কোনো প্রমাণ, ডেথ সার্টিফিকেট বা লিখিত কাগজপত্র পাননি।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুরুতে দায় এড়ানোর চেষ্টা করে। তবে রিজিয়া (প্রাঃ) হাসপাতালের পরিচালক ডা. আইয়ুব আলী বলেন,
“অপারেশনের পর মা ও বাচ্চা দু’জনেই সুস্থ ছিল। আমি কোনো ছাড়পত্র দেইনি। কীভাবে শিশুটি হাসপাতাল থেকে বের হলো, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি সংঘবদ্ধ শিশুবিক্রি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতালকে ব্যবহার করে আসছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত