নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহীর পুঠিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে এক পুলিশ সদস্যকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা। ঘটনাটির ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে পুঠিয়ার পোল্লাপুকুর এলাকায় রাজশাহী–নাটোর মহাসড়কে একটি বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলামসহ তিনজন নিহত হন। নিহত অপর দুইজনের মধ্যে একজন নারী ও একজন প্রায় ৪০ বছর বয়সী পুরুষ রয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে রামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই চালককে আটক না করা এবং ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাতের দিকে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক পুলিশ সদস্যকে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করছে জনতা। ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়,
‘এটা বেলপুকুর থানার পুলিশ। গাড়ির ড্রাইভারকে ছেড়ে দিয়েছে। দুই–তিনজন স্পট ডেথ হয়েছে। দায়িত্ব ঠিকমতো পালন না করলে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। সবাই বলছে, ঘুষ খেয়ে ড্রাইভারকে ছেড়ে দিয়েছে, এটা খুবই লজ্জাজনক।’
দুর্ঘটনার সময় ধারণ করা আরেকটি ভিডিওতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, পুঠিয়ার দিক থেকে আসা রাজকীয় পরিবহনের একটি বাস সজোরে অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে তার বন্ধু শান্ত ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা কোন থানার আওতায় দুর্ঘটনাস্থল পড়েছে তা নিয়েই দ্বিধায় ছিলেন এবং দ্রুত চালককে আটক করা হয়নি।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, দুর্ঘটনার পর বেলপুকুর ও পুঠিয়া থানার দুই ওসি নিজেদের সীমানা নিয়ে তর্কে জড়ান। কেউই দায় নিতে চাইছিলেন না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ডাকতে বলা হলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা রাজশাহী–নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাত ৮টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। দুর্ঘটনা ও পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগে এক পুলিশ সদস্যকে জনতার রোষানলে পড়তে হয়। তবে ঘটনার সময় ও প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।