বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে নিজ বাড়ির বাথরুম থেকে মুসলিমা খাতুন সীমা (২৮) নামের এক গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর উত্তরপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত মুসলিমা খাতুন সীমা ওই গ্রামের ব্যবসায়ী শেখ আসাদের স্ত্রী। দম্পতির ছয় বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুর ১২টার দিকে মুসলিমা খাতুন রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সাড়ে ১২টার দিকে তিনি বাথরুমে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাইরে না আসায় বিষয়টি তার কন্যাসন্তানের নজরে আসে। পরে শিশুটি পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়টি জানায়।
এ সময় নিহতের শ্বশুর বাথরুমের দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পুত্রবধূকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে বাগেরহাট মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, প্রাথমিকভাবে নিহতের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে নিহত নারী মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এর আগেও তিনি গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।