নিজস্ব প্রতিবেদক | মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)
দীর্ঘ চার দশকের নিষ্ঠা, সততা ও শিক্ষাদানে ভরা কর্মজীবনের অবসান ঘটিয়ে অবসরে গেলেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ২০৪ নং বেতকাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন তালুকদার। সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীসমাজের অকৃত্রিম ভালোবাসা আর আবেগঘন বিদায়ে নিজেও কাঁদলেন, কাঁদালেন সবাইকে।
বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন থেকে আগত প্রায় ৬ শতাধিক শিক্ষক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই বিদায় পরিণত হয় এক আবেগঘন স্মৃতির আয়োজনে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার মো. শেফাইনূর আরেফিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট।
সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সামসুর রহমান তালুকদার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আসাদুজ্জামান।
স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সুলাইমান তালুকদার।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমান তালুকদার, প্রধান শিক্ষক মো. হারুন অর রশীদ, তালুকদার ওমর ফারুক, সেলিমাবাদ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক পিযুস কুমার সাহা, গাজী মিজানুর রহমান, প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও পরিচালনা করেন ২০৭ নং গাবগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমন আকন।
বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে মো. জাকির হোসেন তালুকদার অজস্র অশ্রু ঝরিয়ে বলেন,
“৪০ বছরের কর্মময় জীবন কখন যে শেষ হয়ে গেল, তা বুঝতেই পারিনি। বিদায় বেলায় একটাই চাওয়া—ঈমানের সহিত যেন পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে পারি একজন মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে।”
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে শত শত ক্রেস্ট, ফুলের তোড়া, উপহার সামগ্রী ও মানপত্র প্রদান করেন।
বিদায় সংবর্ধনার পর এক হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। বিদ্যালয় থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত দীর্ঘ পথে রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীরা ফুলের শুভেচ্ছা জানায়। সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শত শত মানুষ পায়ে হেঁটে তাকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন—যা মোরেলগঞ্জের শিক্ষা ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।