প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভা এলাকায় ইজিবাইক চালকদের জিম্মি করে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে, এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন ইজিবাইকপ্রতি নির্ধারিত চাঁদা আদায়, নতুন স্ট্যান্ডে যুক্ত হতে এককালীন মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া এবং চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হত্যার হুমকি ও মারধরের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী ইজিবাইক চালক মো. মুস্তাফিজুর রহমান (২৬) সেনাবাহিনী ক্যাম্প ও থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, নওয়াপাড়া নূরবাগ স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে একটি চক্র প্রতিটি ইজিবাইক থেকে দৈনিক ১০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে আসছে। পাশাপাশি নতুন করে স্ট্যান্ডে যুক্ত হতে চাইলে এককালীন ৫ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রতিদিন ওই স্ট্যান্ড এলাকায় আনুমানিক ৩০০টির বেশি ইজিবাইক চলাচল করায় চাঁদাবাজরা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চাঁদা না দিলে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি
অভিযোগে বলা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা সরাসরি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং নওয়াপাড়া পৌরসভা এলাকায় ইজিবাইক চালাতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয়। একাধিক চালককে নওয়াপাড়া টেকার স্ট্যান্ড সংলগ্ন বালির মাঠে নিয়ে গিয়ে চাকু ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয়।
জ্যাকেট থেকে টাকা চুরি, সিসিটিভিতে ধরা পড়ার অভিযোগ
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বুইকরা গরুরহাট এলাকায় একটি ইজিবাইক গ্যারেজে অবস্থানকালে তার ইজিবাইকের ভেতরে রাখা জ্যাকেটের পকেট থেকে ৭ হাজার টাকা চুরি হয়। পরে গ্যারেজের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অভিযুক্তদের একজনের আত্মীয় ওই টাকা চুরি করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলেও পরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
টাকা ফেরতের কথা বলে ফাঁদ, প্রকাশ্যে মারধর
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ রাতে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত মো. রিপন ভুক্তভোগীকে নওয়াপাড়া টেকার স্ট্যান্ড সংলগ্ন বালির মাঠে ডেকে নেয়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত থাকা অন্য অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করে।
এ সময় টাকা ফেরত দেওয়া হবে না জানিয়ে পুনরায় টাকা চাইলে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে গলাধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ইজিবাইক চালাতে বাধা, চালকদের মুখ খুলতে ভয়
মারধরের ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগীকে ইজিবাইক চালাতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্য চালকদের বিষয়টি জানালে তারাও প্রতিবাদ করতে গেলে একইভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের শিকার হন।
অভিযোগপত্রে একাধিক প্রত্যক্ষ সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ইজিবাইক চালকরা এই চাঁদাবাজ চক্রের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
সেনাবাহিনী ক্যাম্প ও থানায় লিখিত অভিযোগ
পরিস্থিতির ভয়াবহতায় ভুক্তভোগী প্রথমে রাজঘাট এলাকায় অবস্থিত সেনাবাহিনী ক্যাম্প (জে.জে.আই মিলস)-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে একই অভিযোগ অভয়নগর থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে। অন্যথায় নওয়াপাড়ার ইজিবাইক চালকদের জীবন ও জীবিকা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।