নিজস্ব প্রতিবেদক
আর মাত্র কয়েক দিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচনী উত্তাপের মাঝেই রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক হত্যাকাণ্ডে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সন্ত্রাসী হামলা ও প্রকাশ্য হত্যার ঘটনায় ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গত বছরের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে প্রতিদিন গড়ে ১১ জন মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য, যা নির্বাচনের আগে পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।গত ১৭ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুরে বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনি প্রচারণাকালে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। যশোরে বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী, চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান, বনশ্রীতে শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার এবং পশ্চিম রাজাবাজারে জামায়াত নেতা আনোয়ারুল্লাহকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মোট ৩ হাজার ৭৮৫টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫৩টি বেশি। এসব ঘটনার মধ্যে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ছিল ১০২টি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, হত্যাকাণ্ডগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার প্রবণতা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করছে। তাদের মতে, সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যকর নজরদারি ও দায়িত্বশীল ভূমিকা না থাকলে নির্বাচনের আগে সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অপরাধী যে দলের বা মতাদর্শেরই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। নির্বাচনের সময় সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং সহিংসতামুক্ত একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন।