
যশোর জেলা সর্বশেষ এক বছরে হিংস্র অপরাধের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে দিয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য ও এলাকাবাসীর উপস্থিত মন্তব্য অনুসারে গত ১২ মাসে মোট ৬২টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
পরিসংখ্যান: হত্যাকাণ্ডের বিস্তার
মোট হত্যাকাণ্ড: ৬২টি
প্রতি মাসে গড়ে: প্রায় ৫টি হত্যাকাণ্ড
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ দিনেও প্রকাশ্যে ছুরি, চাকু ও পিস্তল সহ প্রতিদ্বন্দ্বীদের হামলার ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। জমি বিরোধ, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, গোত্র–দলীয় সংঘর্ষ ও ব্যক্তিগত শত্রুতার কাছে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি বড় অংশের পেছনে এসব কারণ কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যশোর শহর ও তার আশপাশের গ্রামাঞ্চলে মানুষকে সাধারণত নিরাপদ মনে হলেও, গত এক বছরে হত্যাকাণ্ডের ধারা বেড়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো এখন রাতে বাইরে যাওয়া থেকে বিরত হচ্ছে এবং দোকান–পাড়াগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিক্ষিত যুব সমাজের একাংশ জানান, দিনদুপুরেও খুনের ঘটনা ঘটছে,এটি একটি ভয়াবহ পরিবর্তন। পুলিশ তদন্তে এগিয়ে আসছে, কিন্তু দোষীদের গ্রেফতারে দ্রুততা কম। এক বেসরকারি সূত্র জানালেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছা করেন। রাজনৈতিক কোন্দলে তরুণকে গুলি করে হত্যা গ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও ক্ষয়ক্ষতি দোলাইগাছা ও সদর উপজেলায় নাশকতা ও লুটপাট রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনা। এই ধরনের খুনের কাহিনী সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। যশোর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ প্রবণতা কয়েক মাস ধরে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা দুষ্ট চক্রগুলোর বিরুদ্ধে ক্রমাগত অভিযান চালাচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেফতার অভিযান, ময়নাতদন্ত, মামলার তদন্ত এবং আইনগত পদক্ষেপগুলো জোরদার করা হয়েছে। যদিও দ্রুততার অভাব জনমনে হতাশা সৃষ্টি করছে।যশোরে গত এক বছরে ৬২টি হত্যাকাণ্ড ঘটার খবর স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বহু পরিবার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত, এবং অপরাধ দমন ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষ। এর ফলে সামাজিক সচেতনতা, নিরাপত্তা উদ্যোগ, এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে জনগণের সহযোগিতার গুরুত্ব আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।