সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বঙ্গবীর টু পিরের বাজার সড়কে সরকারি অনুমতি ছাড়া প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, হাজির আলী নামের এক ব্যক্তি এসব গাছ প্রতিটি দুই থেকে চার হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছেন। গাছের কয়েকজন ক্রেতাও জানিয়েছেন, তারা হাজির আলীর কাছ থেকেই গাছ কিনেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাজির আলী বলেন, “রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য এবং কিছু মরা গাছ কাটার বিষয়ে রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন আমাকে বলেন। গাছের ডালপালা বিক্রি করে শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া হবে, আর বাকি গাছ তহসিলদার নিলামে বিক্রি করবেন।”
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। প্রকাশ্যে সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা নিয়মিত শোনা গেলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন কতটা কার্যকর, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
গোয়াইনঘাট উপজেলা বন কর্মকর্তা (এডিএম) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আমাদের নজরের বাইরে ছিল। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ জব্দ করেছি। একটি কুচক্রী মহল এ কাজটি করেছে। যারাই জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর ফারুক বলেন, “গাছ কাটার বিষয়ে আমি অবগত নই। সাধারণত গাছ কাটলে নিলাম দেওয়া হয়, এটাই নিয়ম। তবে এ ঘটনার ব্যাপারে আমার জানা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, একদিকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, অন্যদিকে প্রকাশ্যে সরকারি গাছ নিধন—এমন দ্বৈত বাস্তবতায় পরিবেশ সুরক্ষা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। তারা দোষীদের কঠোর শাস্তি ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।