নিজস্ব প্রতিবেদক: মোঃ জালাল উদ্দিন
হাড় কাঁপানো শীতের রাতে মানবতার উষ্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শ্রীমঙ্গলের তরুণ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মারজান আহমেদ। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল কলেজ রোডে নিউ অরবিট টেলিকম ও মানহা টেলিকমের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক অসহায় পথপরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি প্রমাণ করলেন—মানবিকতা এখনো সমাজে বেঁচে আছে।
বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি ২০২৬) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীমঙ্গল কলেজ রোড এলাকায় এক মা ও তার দুই শিশু সন্তানকে কনকনে ঠান্ডায় কাঁপতে দেখে মানবিক উদ্যোগ নেন নিউ অরবিট টেলিকম ও মানহা টেলিকমের স্বত্বাধিকারী, তরুণ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মারজান আহমেদ। পরনে ছিল জীর্ণ ও অপ্রতুল শীতবস্ত্র, অসহায় দৃষ্টিতে সাহায্যের অপেক্ষায় ছিল পরিবারটি।
পরিস্থিতি বুঝে তিনি নিজ দোকানের সামনেই অসহায় পরিবারটির জন্য শীতবস্ত্র ও প্রয়োজনীয় পোশাক উপহার দেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আকাশ মিয়া।
মারজান আহমেদ নিজ হাতে যেসব উপহার সামগ্রী তুলে দেন— মায়ের জন্য একটি মোটা কম্বল ও এক জোড়া মেন্ডেল জুতা, ছেলের জন্য গরম চুইটার, জিন্স প্যান্ট ও বারমিচ জুতা, মেয়ের জন্য গরম চুইটার, টি-শার্ট, প্যান্ট, মেন্ডেল জুতা, কালো কাপড়ের সু জুতা এবং কান ও মাথা ঢাকার উষ্ণ টুপি।
উপহার পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন অসহায় মা। চোখের কোণে জমে ওঠে আনন্দের জল। দীর্ঘদিন পর উষ্ণতার ছোঁয়া পেয়ে শিশু দুটির মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি—যেন শীতভেজা জীবনে এক মুহূর্তের নিরাপত্তা ও শান্তি ফিরে আসে।
এ সময় মারজান আহমেদ বলেন, “আমরা ব্যবসা করি ঠিকই, কিন্তু মানুষের কষ্ট দেখেও যদি কিছু না করি, তাহলে মানুষ হিসেবে নিজের দায় এড়ানো যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “শীত তো সবার জন্য আসে, কিন্তু উষ্ণতা সবার ভাগ্যে জোটে না। যদি একজন মানুষের কষ্ট হলেও কিছুটা লাঘব করা যায়, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।”
স্থানীয়রা জানান, বর্তমান সমাজে এমন মানবিক উদ্যোগ খুবই বিরল। একজন তরুণ ব্যবসায়ী হয়েও যেভাবে মারজান আহমেদ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
একটি ছোট উদ্যোগও যে কারো জীবনে বড় উষ্ণতা বয়ে আনতে পারে—তার বাস্তব প্রমাণ রেখে গেলেন তরুণ ব্যবসায়ী মারজান আহমেদ। তিনি দেখিয়েছেন, ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাই একজন সচেতন নাগরিকের প্রকৃত পরিচয়।
তরুণ মারজান আহমেদ-এর মতো তরুণ উদ্যোক্তারা যদি মানবিক কাজে এগিয়ে আসেন, তবে একটি সহানুভূতিশীল ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সময়ের ব্যাপার মাত্র। শীতে আর কোনো পথপরিবারকে কাঁপতে না হয়—এমন সমাজ গড়ার আহ্বানই রেখে গেল এই মানবিক উদ্যোগ।
শুধু একজন তরুণ ব্যবসায়ী নন—মারজান আহমেদ আজ সমাজের কাছে এক দায়বদ্ধ মানবিক মুখ।