নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগরের বহুল আলোচিত নওয়াপাড়া পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্য ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকদের কাছে কোচিং না করলে টেস্ট পরীক্ষায় ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি এক ছাত্রীর ক্ষেত্রে ফেল দেখিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা সাংবাদিকদের বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান ও মামুন স্যার দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে তাদের কোচিংয়ে পড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। আমাদের সামর্থ্য না থাকায় মেয়েকে বাইরে প্রাইভেটে পড়িয়েছি। এর পর ইচ্ছাকৃতভাবে টেস্ট পরীক্ষায় ফেল দেখিয়ে মেয়েকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। অনুরোধ করলেও কোনো সুযোগ না দিয়ে আমাকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, এভাবে পড়ালেখা বন্ধ হলে আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই। স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কিছু শিক্ষক কোচিং ব্যবসা পরিচালনা করছেন, এবং যারা কোচিংয়ে যোগ দেয় না তাদের হয়রানি ও ফলাফলে বঞ্চনার শিকার হতে হয়। অভিভাবক সমাজের দাবি, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে স্বচ্ছ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, যেন কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষাবঞ্চিত না হয়। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই ছাত্রী টেস্ট পরীক্ষায় সাত বিষয়ে ফেল করেছে। একাডেমিক নিয়ম অনুযায়ী তাকে রাখা সম্ভব হয়নি। কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ সঠিক নয়।একাধিকবার ফোন করা হলেও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সচেতন মহল মনে করে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিংয়ের নামে বাণিজ্য, ফলাফল কারসাজি ও শিক্ষার্থী নির্যাতনএসব অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অধিকার রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।