
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মৌলভীবাজার–৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) সংসদীয় আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাস ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হতে পারেন—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও বিষয়টি নিয়ে চলছে তীব্র বিতর্ক।
সাংবাদিক আবদুল হাই ইদ্রিছী তার ফেসবুক পোস্টে এই সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করার পর স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রীতম দাসের নাম নিয়ে আপত্তি তুলছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, তিনি প্রার্থী হলে ভোটকেন্দ্রে যাবেন না।
ফেসবুকে দেওয়া বিভিন্ন পোস্টে অভিযোগ করা হয়, প্রীতম দাস ও তার ভাই এলাকায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এজেন্ট হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া প্রীতম দাসের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালের শেষের দিকে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে শ্রীমঙ্গলে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। ‘শ্রীমঙ্গলের ধর্মপ্রাণ মুসলমান’-এর ব্যানারে তৌহিদী জনতা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে তার গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানায়। ওই ঘটনায় মাহবুবুল আলম ভুইয়া নামে এক ব্যক্তি শ্রীমঙ্গল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে প্রীতম দাস গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন।
পাশাপাশি এনসিপি নেতা প্রীতম দাসের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, জুলাই বিপ্লবের পর ভীমপল সিংহ নামের এক আওয়ামী লীগ নেতাকে পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখেন তিনি। এ প্রেক্ষিতে গত ২০ জুন ২০২৫ মৌলভীবাজারে সাধারণ ছাত্র-জনতা তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে বিক্ষোভ মিছিল করে। বিক্ষোভে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পৃথক পোস্টে আহমদ হুসাইন দাবি করেন, প্রীতম দাস অতীতেও ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছিল। তিনি বলেন, তাকে প্রার্থী করা হলে সেটি ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ হবে।
এদিকে মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম নামের একজন ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, প্রীতম দাসের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে, যা ‘জুলাই আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’। যদিও এসব অভিযোগ এনসিপির পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে।
ডেওয়ান রায়হান নামের আরেকজন ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগ পরিবারের একজন হয়েও প্রীতম দাস হঠাৎ করে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা হয়ে ওঠা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে আরও অভিযোগ উঠেছে, প্রীতম দাস এলাকায় তেমন গণসংযোগ, পথসভা বা উঠান বৈঠক না করায় সাধারণ ভোটারদের কাছে তিনি অপরিচিত। ফলে প্রার্থী হলে তার পক্ষে জনসমর্থন পাওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন অনেকে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মৌলভীবাজার–৪ আসনে প্রীতম দাসকে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী করা হলে তার বিরুদ্ধে থাকা বিতর্ক ও অভিযোগ নির্বাচনী সমীকরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে করে বিরোধী প্রার্থীদের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।
এ বিষয়ে প্রীতম দাস বা এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।