প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ১৫, ২০২৬, ৪:১৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫, ৫:৫১ পি.এম
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ছায়া সঙ্গী ফাতেমা, খালেদা জিয়ার অনন্য বন্ধুত্ব ও ত্যাগগাঁথা, জীবন সংগ্রাম ও সম্পর্কের অনুপ্রেরণীয় গল্প
মোঃ কামাল হোসেন, সম্পাদকীয়
বাংলাদেশ রাজনীতির অদেখা এক আবেগ-বন্ধনের গল্প। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার দীর্ঘদিনের ছায়া সঙ্গী গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম, দুইজনের সম্পর্ক কেবল কর্ম ও নিয়োগের সম্পর্ক ছিল না; এটি ছিল মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা, আনুগত্য ও মানবিক বন্ধনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ফাতেমা বেগমের জন্ম হয়েছে ভোলার সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের শাহ-মাদার গ্রামে। কৃষিজীবী পরিবারে তার জন্ম ও শৈশব পেছনের গ্রামীণ জীবনের কষ্টের সঙ্গে কাটে। ছোটবেলা থেকেই সংসারের চাপ ও দায়িত্বে বড় হওয়া, পরিবারের ভরসা হয়ে ওঠা, সব মিলিয়ে তার জীবন শুরুতেই সংগ্রামের মুখোমুখি হয়েছিল।
গ্রামে থেকে ঢাকায় এসে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করা শুরু করে, কিন্তু ধীরে ধীরে তার পরিচয় বদলে যায়,খালেদা জিয়ার বিশ্বাসী সঙ্গী হয়ে ওঠে।
ফাতেমা শুধু একজন গৃহকর্মী ছিলেন না; তিনি ছিলেন খালেদা জিয়ার জীবনের দীর্ঘ পথচলার সঙ্গী।
২০১৮ সালে খালেদা জিয়া যখন আদালতের রায়ের পর ঢাকার পুরাতন সেন্ট্রাল জেলে বন্দি হন, তখন ফাতেমা স্বেচ্ছায় তাঁর সঙ্গে থাকার অনুমতি নেন এবং প্রায় ২৫ মাস খালেদার পাশেই ছিলেন।
বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে ও বিদেশ ভ্রমণে খালেদার সঙ্গে ছায়া সঙ্গী হিসেবে তিনি ছিলেন।
শেষ দিন পর্যন্ত এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদার শয্যায় পাশে থেকে সেবা করেছেন।
সমাজে কখনো আলোচনায় আসেননি, কিন্তু রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে ছিলেন অবিচল নীরব উপস্থিতি।
বন্ধনের গাঁথা,বিশ্বাস, মানবিকতা ও আনুগত্য
ফাতেমা ও খালেদার সম্পর্ক ছিল স্নেহ, মানবিকতা ও আনুগত্যে গড়া। রাজনৈতিক উত্থান-পতন, জেল জীবন, অসুস্থতা ও বিদেশ ভ্রমণ, সব জায়গায় ফাতেমা ছিল স্থির সঙ্গী।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম ও তার অসংখ্য চড়াই-উতরাইয়েও তিনি ছিল এক অনন্য ছায়া, যাকে কখনো সংবাদ শিরোনামে প্রশস্ত আলোকে দেখা হয় না, কিন্তু যার অনুবৃত্তি ও সহানুভূতি ইতিহাসের অজানা আলোকচ্ছটায় স্থায়ী ছাপ ফেলেছে।
ফাতেমা বেগমের গল্প আমাদের শেখায়, আনন্দ, কষ্ট ও সংগ্রামের সঙ্গী হতে পারে মানুষের জীবনে এক অনন্য ও অনুপ্রেরণামূলক দিক, যখন তা হয় বিশ্বাস, ন্যায় ও ভালোবাসার মূল্যবান বন্ধনে বাঁধা। তাঁর আয়োজন করা মানবিক সহানুভূতি ও আনুগত্যের উদাহরণ অনেকের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে অনেক দিন বহুবছর।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত