
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে এক রাজনীতির অধ্যায় আজ শেষ হলো। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতারা ও সাধারণ নাগরিকরা বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবের পড়াশোনা ছিল দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে। ১৯৮১ সালে স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর তিনি রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেন। ১৯৮২ সালে বিএনপি’র সদস্য হিসেবে যোগ দেন এবং দ্রুতই দলের নেতৃত্বে উঠে আসেন।
৮০-এর দশকে সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, যার ফলে তাঁকে বহুবার গৃহবন্দী ও আটক করা হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেই সময় সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালের নির্বাচনে আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং দেশের রাজনীতিতে শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রাখেন।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘ চিকিৎসা চলাকালীন বিভিন্ন জটিল রোগজনিত সমস্যা দেখা দেয় এবং তার অবস্থার অবনতি হয়। তাঁর চিকিৎসক ও পারিবারিক সূত্র জানিয়েছিলেন যে তিনি অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জনসাধারণসহ আন্তর্জাতিক মহলেও তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজনৈতিক নেতারা তাঁর রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে শোক প্রকাশ করেছেন।