নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার উত্থান ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা না থাকা এক গৃহবধূ হয়ে তিনি যখন বিএনপির নেতৃত্বে আসেন, তখন দলের ওপর নেমে এসেছিল অভূতপূর্ব সংকট। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পরের অস্থির সময়টিই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির ভেতরে দেখা দেয় নেতৃত্ব সংকট ও ভাঙন। এমন বাস্তবতায় দলকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে ১৯৮২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যোগ দেন খালেদা জিয়া। নেতৃত্বশূন্য একটি দলকে বাঁচিয়ে তোলা তখনই তার প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।
রাজপথের সংগ্রাম, বিশেষ করে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা তাকে দেশজুড়ে পরিচিত করে তোলে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সময়েই বিএনপি একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয় এবং জনগণের আস্থা অর্জন করে। তার নেতৃত্বের প্রতি সেই আস্থারই প্রতিফলন ঘটে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে, যেখানে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। আর সেই সঙ্গেই দেশে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া।
প্রথম মেয়াদে তুলনামূলক স্থিতিশীল শাসনকাল এবং নারী নেতৃত্বের অগ্রযাত্রায় তার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠে। তবে পরবর্তী সময়ে জোট রাজনীতি, বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্ত এবং দলীয় বিরোধ—এসব বিষয় তার রাজনৈতিক জীবনে কিছু ‘আক্ষেপ’ও সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনজুড়ে মামলা, কারাবরণ এবং নানামুখী প্রতিকূলতার মুখেও খালেদা জিয়া তার গ্রহণযোগ্যতা হারাননি। বন্দিত্বের মাঝেও তিনি দলকে সংগঠিত রাখেন এবং নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
সবশেষে বলা যায়, কিছু ভুল সিদ্ধান্তের আক্ষেপ থাকলেও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি ছিল সংকট মোকাবিলার অটুট সাহস, দৃঢ়তা এবং গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি। তার রাজনৈতিক জীবনের গল্প তাই শুধু ক্ষমতার নয়, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে টিকে থাকার এক বড় অনুপ্রেরণা।