
অনলাইন ডেস্ক
জনসংখ্যা হ্রাসের ভয়াবহ সংকট কাটাতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। তরুণদের প্রেম, ডেটিং, বিয়ে ও সন্তানধারণে উৎসাহিত করতে সরকার এখন সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে নাগরিকদের। দীর্ঘদিন ধরে দেশে বিয়ে ও সন্তান জন্মদানে অনীহা বাড়তে থাকায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, তীব্র পেশাগত প্রতিযোগিতা ও ব্যয়বহুল জীবনযাত্রার কারণে তরুণ প্রজন্ম সম্পর্ক, বিয়ে ও সন্তানধারণ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ফলে বিশ্বে সবচেয়ে কম জন্মহারের দেশের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে দক্ষিণ কোরিয়া। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে শতাব্দীর শেষে দেশটির জনসংখ্যা এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসবে। সরকারি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, কর্মজীবী নারীদের বড় একটি অংশ সন্তান লালন-পালনকে চাকরিজীবনের বড় বাধা হিসেবে দেখছেন। লিঙ্গবৈষম্য ও পারিবারিক দায়িত্ব বণ্টনে অসমতাও এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। ২০২৩ সালে দেশটির মোট প্রজননহার দাঁড়ায় মাত্র ০.৭২, যেখানে একটি স্থিতিশীল জনসংখ্যা বজায় রাখতে প্রয়োজন ২.১। যুবসমাজকে সম্পর্ক ও পরিবার গঠনে উৎসাহ দিতে শুরু হয়েছে একগুচ্ছ বিশেষ প্রকল্প।
এর আওতায়, বিপরীত লিঙ্গের কারও সঙ্গে ডেটে গেলে সরকার বহন করছে পুরো খরচ
রেস্তোরাঁয় খাওয়া, ঘুরতে যাওয়া, সিনেমা দেখা, সবকিছুতেই মিলছে সহায়তা এক একটি ডেটের জন্য দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩৫০ ডলার পর্যন্ত এমনকি ডেটিং চলাকালে দু’পক্ষের বাবা–মায়ের দেখা করার খরচও দিচ্ছে সরকার। যে যুগল বিয়ের সিদ্ধান্ত নেবেন, তাদের জন্য থাকছে আরও বড় সুবিধা, বিয়ের জন্য সরকারি সহায়তা ১৩ হাজার ডলার পর্যন্ত সন্তানধারণে সিদ্ধান্ত নিলে দেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা সরকারের দাবি,জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার কারণে যেন তরুণ দম্পতিরা সন্তান নিতে নিরুৎসাহিত না হন, সেই লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে এই পদক্ষেপ। দক্ষিণ কোরিয়া মনে করছে, অর্থনৈতিক প্রণোদনা শুধু আর্থিক চাপ কমাবেই না, বরং তরুণদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পরিবার ও সামাজিক বন্ধন পুনরুজ্জীবিত করতেও বড় ভূমিকা রাখবে।