মোঃ কামাল হোসেন, সম্পাদক
সমাজে ধর্মীয় বিভাজন নয়, মানবতাকেই সর্বোচ্চ পরিচয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে লেখক বলেছেন, তাঁর ব্যক্তিজীবনে বহু হিন্দু বন্ধু রয়েছেন, কিন্তু সেই সম্পর্ক কখনোই ধর্মীয় পরিচয়ের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়নি। বন্ধুত্ব তাঁর কাছে কেবলই এক নির্মল আবেগ, বন্ধু, ভাই বা বোন হিসেবে তাঁরা সমানভাবে স্থান করে নিয়েছেন হৃদয়ে। বন্ধুত্ব বা মানবিক সম্পর্ক কখনো ধর্ম, জাত–পাত বা সংকীর্ণ মানসিকতার হিসাব কষে তৈরি হয় না। সবার শরীরেই একই উষ্ণ লাল রক্ত প্রবাহিত, সবার ভেতরেই একই হৃদস্পন্দন, এই মৌলিক মানবতাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়, সমাজের কিছু অসাধু ব্যক্তি ধর্মের মুখোশ পরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, এমন দুঃখজনক এ ধরনের অপরাধ কখনোই ধর্মের দায় নয়; বরং তা ব্যক্তিকর্ম ও নৈতিক অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ। ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অপরাধ করার প্রবণতা কঠোরভাবে প্রতিরোধের দাবি জানাচ্ছি।অপরাধীর কোনো ধর্ম, জাত বা পরিচয় নেই; সে শুধু অপরাধী। তাই মানবতার স্বার্থে সকল অপরাধীর নিরপেক্ষ ও কঠোর বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। বিসমিল্লাহ বললে যেমন কোনো হারাম বস্তু হালাল হয় না, তেমনি ধর্মীয় চিহ্ন বা পোশাক অপরাধকে বৈধতা দিতে পারে না, এমন তুলনার মাধ্যমে ধর্মীয় অপব্যবহারের বন্ধ হওয়া জরুরি।ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সকল অপরাধের বিচার হোক, জয় হোক মানবতার। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য গড়ে তুলতে পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ জরুরি। এবিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অপরাধের বিচার ব্যক্তি-পরিচয়ে নয়, অপরাধের ধরনেই হওয়া উচিত, এতে সমাজে ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠা পায়।নাগরিক সমাজ ধর্মের অপব্যবহার ঠেকাতে সচেতনতা, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।