
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ‘উদ্ভাবক’ হিসেবে পরিচিত মিজানুর রহমান (৪৫) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে কারাগারের অভ্যন্তরে একটি কক্ষে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। মিজানুর রহমান যশোরের শার্শা উপজেলার আমতলা গ্রামের আক্কাচ আলীর ছেলে। স্থানীয়ভাবে ‘উদ্ভাবক মিজান’ নামে সুপরিচিত এই ব্যক্তি পেশায় ওয়ার্কশপ মেকানিক হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র, অগ্নিনির্বাপণ ডিভাইস এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষায়িত যানবাহনসহ বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নির্মাণ করে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার কোনো এক সময়ে উদ্ভাবক মিজান কপোতাক্ষ–৩ ভবনের কার্পেট চালির দরজা ভেঙে ভেতরের একটি কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে সেখানে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। কর্তব্যরত কারারক্ষীরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু ঘটে। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বলেন,
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে তিনি দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে একাই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটান। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। মিজানের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৪ জুলাই ২১ বছর আগের একটি হত্যা মামলায় আদালত মিজানুর রহমানসহ চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। ২০০৩ সালে যশোর বেনাপোলে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক সুজায়েতুজ্জামান প্রিন্স হত্যার ঘটনায় তিনি দণ্ডিত হন। নিহত প্রিন্স ছিলেন মিজানের আপন ভগ্নিপতি। রায়ের পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি। শার্শা এলাকার কয়েকজন জানান,
দীর্ঘদিনের মামলা, আর হঠাৎ আজীবন কারাদণ্ডের রায়, এসব মানসিক চাপ মিজানকে চরম হতাশায় ফেলেছিল। হয়তো সেই হতাশা থেকেই সে পথ বেছে নিয়েছে।
উদ্ভাবক মিজানের মতো পরিচিত একজন কয়েদির মৃত্যুর ঘটনায় কারাগারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে তিনি দরজা ভেঙে ওই কক্ষে ঢুকলেন এবং কেন নজরদারির বাইরে ছিলেন, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কারা কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছে।