
নিজস্ব প্রতিবেদক
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় এক সঙ্গীত অনুষ্ঠানে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের ইসলাম ও আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তির ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার পর বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও মুসল্লিদের পক্ষ থেকে তার দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি তোলা হয়। পুলিশের নজরদারির পর গত বৃহস্পতিবার ভোরে ডিবি পুলিশ বিশেষ অভিযানে মাদারীপুর থেকে আবুল সরকারকে আটক করে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে বাউল আবুল সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যখন ক্ষোভ তুঙ্গে, ঠিক তখনই বাউল জগতের অভ্যন্তরীণ অন্ধকার দিক নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন নারী বাউল শিল্পী হাসিনা সরকার।
সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, নারী বাউল শিল্পীরা ‘বিছানায় না গেলে’ তাদের কোনো প্রোগ্রামে ডাকা হয় না। তিনি নিজেও একাধিকবার এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন বলে জানান। হাসিনা সরকার বলেন,আমার তো প্রোগ্রাম নাই, আমার দিকে একটু খেয়াল রাইখেন এমন অনুরোধ করলে তারা বলে, খেয়াল রাখতে হলে কথা শুনতে হবে, ডাকলে যেতে হবে। আমি জানতে চাইলে বলেন এইটা কি ভেঙে বলতে হবে? তখনই বুঝেছি কিসের ইঙ্গিত। আমি বলেছি মাফও চাই, দোয়াও চাই, কিন্তু আমার ইজ্জত বিক্রি করে প্রোগ্রাম নেব না। এটা বাউল গান না। তিনি আরও দাবি করেন, অনেক পুরুষ বাউল শিল্পী নারী সহশিল্পীদের কুপ্রস্তাব দিয়ে থাকেন। তারা বলে আমাদের কথা শুনবি, তোকে বায়না দেব। বেডে (বিছানায়) নিতে চায়, তারপর গান গাওয়ার সুযোগ দেয়। বাউল জগত এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে। আমাকে যদি কেউ না ডাকে, তাও আমার কিছু যায় আসে না।
হাসিনা সরকারের এই ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে। কেউ তার বক্তব্যের তদন্ত দাবি করছেন, আবার কেউ বাউল জগতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভিডিওটি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বাউল সংগীত জগতের ভেতরে কি সত্যিই এমন অন্ধকার দিক লুকিয়ে আছে।