আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী) আসনে জাকের পার্টির এমপি পদপ্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল হাই মাস্টার ব্যতিক্রমী প্রচারণায় এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এক হাতে হ্যান্ডমাইক, অন্য হাতে পোস্টার—এভাবেই অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। কোথাও দাঁড়িয়ে, আবার কোথাও হাঁটতে হাঁটতে বাজাচ্ছেন নিজের রেকর্ডকৃত প্রচারণা বার্তা। সাধারণ মানুষের কাছে এই প্রচারণা ইতোমধ্যে আগ্রহ ও সমর্থন তৈরি করেছে।
গত নির্বাচনে সাইকেল চালিয়ে ভোট চাইলেও এবার পুরোপুরি ভিন্ন ধাঁচ—হেঁটে হেঁটে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন হাই মাস্টার। মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, সমস্যা শুনছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাই মাস্টার চরিত্রে অত্যন্ত সাদাসিধে ও সহজ-সরল মানুষ। কেউ ডাকলে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালেও জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসেনি। বরং রাজনীতির মাঠে টিকে থাকতে একের পর এক জমিজমা বিক্রি করতে হয়েছে তাকে।
তারা আরও জানান, এমপি নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য এবার নিজের বসতভিটাও ভাইপোদের কাছে বন্দক রেখেছেন তিনি। পরিবারও তাঁকে পুরোপুরি সমর্থন দিচ্ছে।
ভোটারদের অনেকেই মনে করেন, হাই মাস্টার প্রতি নির্বাচনে বিপুল ভোট পেলেও কারচুপির কারণে জয় থেকে পিছিয়ে যান। এবার সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি বিজয়ী হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।
প্রচারণার বিষয়ে আব্দুল হাই মাস্টার বলেন, “গত এক বছর ধরেই মাঠে আছি। চেয়ারম্যান থাকাকালীন মানুষ খুব স্বাচ্ছন্দ্যে আমার কাছে সমস্যা নিয়ে আসতো। এবারও মানুষের জন্য কিছু করতে চাই, তাই মাঠে নেমেছি। প্রচারণায় গিয়ে যেখানে রাত হয় সেখানে কারও বাড়িতে খাবার খেয়ে রাত কাটাই।”
নির্বাচিত হলে তিনি নারীর উন্নয়ন, গ্যাস লাইন সম্প্রসারণ, কলকারখানা স্থাপন, কচাকাটা থানাকে উপজেলা করা, চরাঞ্চলে চাইনিজ পদ্ধতিতে নদী শাসন, দুধ-মাংস রপ্তানিমুখী পশুপালন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অসহায় মানুষের জন্য সুদমুক্ত ঋণের প্রতিশ্রুতি দেন।
ব্যক্তিগত জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা তিনি। ছেলে বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।
কুড়িগ্রাম-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৭৬ হাজার ৭৪৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন।