
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
নদীভাঙন যেন কুড়িগ্রামের মানুষের অন্তহীন শোক। নাগেশ্বরী উপজেলাজুড়ে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার আর গঙ্গাধরের আগ্রাসী স্রোতে দেড় মাসেই ভেঙে গেছে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি, মসজিদ, বাজার, ফসলি জমি। প্রতিদিনই নতুন নতুন পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নদীর তীরজুড়ে আতঙ্ক। মাটিতে ফাটল দেখা দিলে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তা হুড়মুড় করে নদীতে মিশে যাচ্ছে। নারায়ণপুর ইউনিয়নের কন্যামতি, পদ্মারচর, বালারহাটসহ বহু গ্রামে রাতভর পাহারা দেয় মানুষ শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করার মরিয়া চেষ্টা।
গত এক মাসে শুধু দুধকুমারের কুটিরচর এলাকায় ভেঙে গেছে ২৬টি পরিবার। নদীতে বিলীন হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি, সাতের বেশি স্থাপনা আর ৭০ বিঘা ডালক্ষেত। ডুবে গেছে ১৩ বিঘা কলাবাগানও। হুমকির মুখে মসজিদ, বিদ্যালয়, মাদ্রাসাসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
ভাঙনে নিঃস্ব হওয়া আয়নাল হক বললেন, “গাঙ্গ সব খাইয়া নিল, বউ-বাচ্চা লইয়া এখন কোথায় যামু? একই সুর সুরমান আলীর এক রাতেই সব শেষ। এখন বাঁচমু কীভাবে?
গঙ্গাধর নদীতেও একই করুণ চিত্র। কচাকাটা ইউনিয়নের ধনিরামপুর, মাঝিপাড়া, বালারহাট থেকে অন্তত ৫০টি বাড়ি ভেঙে নিয়েছে নদী।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহাদাৎ হোসেনের অসহায় স্বীকারোক্তি, মানুষ প্রতিদিন সাহায্যের জন্য আসে। কিন্তু আমাদের হাতে কিছুই নেই।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কাজ করছি। তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতায় সব জায়গায় দ্রুত কাজ করা যাচ্ছে না। বরাদ্দ পেলেই স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।