শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মরাগাং এলাকায় উপকূল রক্ষাবাঁধে আবারও ছিদ্র করে পাইপ বসানোর ঘটনা দেখা গেছে। এতে নতুন ভাঙন ও প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় চিংড়িচাষি তপন গাইন শুক্রবার গভীর রাতে তিনটি পাইপ স্থাপন করে লবণপানি তুলতে শুরু করেছেন যার প্রভাব পরদিন সকাল থেকেই স্থানীয় লোকালয়ে দেখা যায়।
বাঁধের ভেতর লবণপানি প্রবেশ করায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীভাঙনে দুই বার সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলো। তাদের অভিযোগ, বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের করা হাইকোর্টের রিটকে পুঁজি করে অনেকেই বাঁধ ছিদ্র করার সুযোগ নিচ্ছেন।
মরাগাং গ্রামের প্রিয়াংকা মণ্ডল বলেন, রাতে পাইপ বসানোর পর সকালে নদীর লবণপানি সরাসরি বাড়িঘরের সামনে উঠে আসে। আরেকটু হলে ঘর ডুবে যেত। আমরা তো ভাঙনের ভয়ে প্রতিদিন মরছি।
সাগর মণ্ডল জানান, বাঁধের ওপরে বসতভিটা হওয়ায় তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। আগে দু'বার নদীভাঙনে ঘর হারাইছি। আবার যদি বাঁধ ভাঙে, কোথায় যামু?
এ নিয়ে নতুন পাইপ বসানো তপন গাইন দাবি করেন, “অন্যদের পাইপ সরালে আমি-ও সরিয়ে নেবো। আগেও পাউবোর নির্দেশে সরিয়েছিলাম। পাশে পাইপ থাকা অবস্থায় আমি একা সরিয়ে কী হবে?”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী প্রিন্স রেজা জানান, প্রায় ১০ সপ্তাহ আগে বাঁধে স্থাপন করা পাইপ অপসারণ অভিযান চালানো হয়েছিল। প্রায় ৭০ শতাংশ পাইপ সরানোর পর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম হাইকোর্টে রিট করেন এবং আদালত এক মাসের নিষেধাজ্ঞা দেন।
“নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা কিছু করতে পারছি না। উল্টো এখন আগের চেয়ে তিনগুণ বেশি পাইপ লাগানো হচ্ছে। বাধা দিতে গেলে আমাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে যোগ করেন তিনি।
রিটকারী চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম অবশ্য দাবি করেন, “আমি শুধু বাঁধের ওপর দিয়ে পাইপ স্থাপন বন্ধের বিরুদ্ধে রিট করেছি। বাঁধ ছিদ্র করে পাইপ বসানোর অনুমতি কোথাও নেই। কেউ বাঁধ কেটে থাকলে তার দায় তারই।
উপকূলের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই এলাকায় বর্ষার আগে বাঁধ দুর্বল হলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের। তাদের একটাই আবেদন:
“বাঁধটা বাঁচান। নইলে আমাদের আর বাঁচার জায়গা থাকবে না।