এস চাঙমা সত্যজিৎ,বিশেষ সংবাদদাত
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আবার কবে হবে—এ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। শনিবার (২২ নভেম্বর ২০২৫) জরুরি সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার স্পষ্ট করে জানালেন, “দুই পক্ষের দাবিই যৌক্তিক। আইনগত অবস্থান পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা নিতে পারছি না।”
চার দফা স্থগিত—পরীক্ষার্থীদের জীবন থমকে গেছে
২০২২ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে এ পর্যন্ত চার দফা পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। সর্বশেষ ১৪ নভেম্বরের পরীক্ষা স্থগিত হলে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন। জেলা পরিষদের গেটে তালাবদ্ধ অবস্থান কর্মসূচিও চলে।
পরীক্ষার্থীদের চাপের মুখে ২১ নভেম্বর নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এবার বাধা আসে অন্য দিক থেকে—উগ্র সেটলার গোষ্ঠী "নিয়োগ বৈষম্যের" অভিযোগ তোলে এবং ৩৬ ঘণ্টার হরতালের ডাক দেয়। আর তার ঠিক আগের দিন, ২০ নভেম্বর, প্রেস ব্রিফিং করে জেলা পরিষদ আবার পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
পরীক্ষার্থীদের স্মারকলিপি: ‘জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে’
শনিবারই পরীক্ষার্থীরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। তাদের অভিযোগ—
নির্ধারিত পরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে স্থগিতাদেশ
বারবার যাতায়াতের খরচে আর্থিক বিপর্যয়
মানসিক চাপে জীবন স্থবির
প্রায় সাত হাজার পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকার
তারা ১৯৮৯ সালের জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবি জানান।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বক্তব্য: নির্দেশনা ছাড়া এগোনো সম্ভব নয়
সভা শেষে কাজল তালুকদার বলেন,
“পার্বত্য জেলা পরিষদের নিজস্ব আইন বহু বছর ধরে অনুসৃত। তবে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নতুন কোটা পুনর্বিন্যাসের প্রজ্ঞাপন দিয়েছে। কোন আইন অনুসরণযোগ্য তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।”
তিনি আশ্বস্ত করেন—দিকনির্দেশনা পেলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের স্পষ্টীকরণ: ‘স্থগিতের সিদ্ধান্ত পরিষদের, আমাদের নয়’
২০ নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দেয়। মূল পয়েন্টগুলো হলো—
নতুন কোটা নীতি পাহাড়ে প্রযোজ্য কি না—এ নিয়ে মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চেয়েছে।
রাঙামাটি জেলা পরিষদের পুনঃঘোষিত পরীক্ষার জন্য একজন প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছিল।
প্রতিনিধি গিয়ে জানতে পারেন—পরীক্ষা আবার স্থগিত।
স্থগিত—পুনঃনির্ধারণ—আবার স্থগিত—এসব সিদ্ধান্ত জেলা পরিষদ একাই নিয়েছে।
মন্ত্রণালয় লিখিত অনুরোধ পেলে সব সহযোগিতা করবে, এবং স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা-নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে দ্রুত প্রক্রিয়া সমাপ্ত করার পক্ষে।
কোটা বিতর্ক কেন?
পরীক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মতে, "কোটা" ইস্যু তোলা হয়েছে উদ্দেশ্যমূলকভাবে। কারণ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ১৯৮৯–এর ৩২(২) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে—
জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থাকবে।
সুতরাং "বৈষম্য" বা "নিয়োগ অনিয়ম"—এই দুই অভিযোগ আইনসঙ্গত নয় বলে মনে করছেন তারা।
জটিলতা কি কাটবে?
জেলা পরিষদ বলছে—জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায়।
মন্ত্রণালয় বলছে—সহায়তা দেবে, তবে সিদ্ধান্ত পরিষদের।
এ অবস্থায় নিয়মিত স্থগিতাদেশে হতাশ সাত হাজার পরীক্ষার্থী এখনো জানেন না—কবে হবে তাদের পরীক্ষা, আদৌ হবে কি না।