
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যশোরের অভয়নগর উপজেলার সমাজসেবা অফিসে ইউনিয়ন সমাজকর্মী হিসেবে কর্মরত রেবেকা আখতারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ঘুষ, প্রতারণা ও অনিয়মের অভিযোগ জমেছে। অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এসব প্রয়োজনীয় সরকারি সুবিধাকে হাতিয়ার করে তিনি নিয়মিত টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় অসংখ্য ভুক্তভোগী।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাতা পেতে আগ্রহীরা সমাজসেবা কার্যালয়ে গেলে রেবেকা তাদের বিভিন্ন অজুহাতে অফিসের বাইরে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে ভাতার কার্ড “নিশ্চিত করে দেওয়া হবে” এমন লোভ দেখিয়ে নেওয়া হয় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা।
এমনকি আক্রান্তদের ভাষ্যমতে, তিনি শুধু অর্থ আদায়ের সুবিধার্থে অফিসের পাশে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন।
ধোপাদী গ্রামের নুরজাহান জানান বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করতে গেলে রেবেকা ২০০০ টাকা দাবী করে। আমি টাকা দিতে পারিনি, তাই আবেদনই করতে পারিনি। এদিকে দেলোয়ারা বেগম বলেন সে আমার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়েছে। এখন ফোন ধরেও না। বয়স্ক ভাতার আবেদনকারী আজিজ বলেন ১৫০০ টাকা নেওয়ার পর তিন মাস হয়ে গেছে কার্ড তো দূরের কথা, আর কোনো খবরই দিচ্ছে না ।
স্থানীয়দের দাবি এমন অভিযোগ শতাধিক, কিন্তু অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পান।এই অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ পুষ্প রানী অধিকারী নামে এক অসহায় বৃদ্ধা রেবেকার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগ দেশের জাতীয় ও স্থানীয় অনেক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু অভিযোগের পরও সমাজসেবা দপ্তর কোনো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে কেন একজন সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগের পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না ? তার পেছনে কি কারও ছায়া আছে ?
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজকর্মী রেবেকা আখতার বলেন সব অভিযোগ মিথ্যা। আমি ইসলামিক মাইন্ডের মানুষ। গরিবের সেবা করি। হারাম খাই না। কিন্তু ভুক্তভোগীদের সরাসরি অভিযোগ এবং একই ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি তার বক্তব্যকে দুর্বল করে তুলেছে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজী মো. জয়নুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
গ্রামবাসীর ভাষ্য কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই রেবেকা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এখন সে প্রকাশ্যে টাকা চায়, কেউ কিছু বলতে পারে না । স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রেবেকা শুধু ঘুষ নয়; অনেক আবেদনকারীকে বাসায় ডেকে আবেদনের নথি আটকে রাখা, আবেদন বিলম্ব করা, ভয় দেখানো এসব মানসিক চাপে ফেলেন। এমনকি কেউ ঘুষ দিতে রাজি না হলে তাদের আবেদন অযথা ঝুলিয়ে রাখা বা বাতিল করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এলাকার সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে—
রেবেকার বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন , ভাতার কার্ড-বাণিজ্য বন্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা ,ভুক্তভোগীদের কার্ড দ্রুত অনুমোদন , সমাজসেবা অফিসের সার্বিক তদারকি বৃদ্ধি , টাকার বিনিময়ে সেবা প্রদানকারী দুষ্টচক্রকে চিহ্নিত করা ,তাদের ভাষায় অসহায় মানুষের ভাতা নিয়ে বাণিজ্য মানবিক অপরাধ। রেবেকার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ দুর্নীতি আরও ছড়িয়ে পড়বে।