নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ২৬ সেকেন্ড স্থায়ীত্বের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকা।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি গত তিন দশকে বাংলাদেশে উৎপত্তি হওয়া সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প।
এ শক্তিশালী ভূমিকম্পে নরসিংদীসহ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে ভবন, সানশেড ও দেয়াল ধসে বহু মানুষ হতাহত হন। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জন, আর আহত হয়েছেন তিন শতাধিক।
নরসিংদী জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার গাবতলী এলাকায় সানশেড ভেঙে পড়ে মারা যায় ১০ বছরের শিশু ওমর। গুরুতর আহত তার বাবা দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বল পরে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ছাড়া জেলার পলাশ উপজেলার মালিতা গ্রামে ৭৫ বছর বয়সী কাজেম আলী ভূঁইয়া, কাজীরচর নয়াপাড়ার নাসির উদ্দিন (৬৫) এবং শিবপুরের আজকীতলা গ্রামের ফোরকান মিয়া (৪৫) নিহত হন।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মেনহাজুল আলম মৃত্যুর বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছেন।
রাজধানীর বংশালের কসাইটুলি এলাকায় পাঁচতলা ভবনের রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে ৩ জন পথচারী নিহত হন। তারা হলেন— রাফিউল ইসলাম (২০), আব্দুর রহিম (৪৮), মেহরাব হোসেন (১২)। মুগদার মদিনা বাগ এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের রেলিং ধসে পড়ে মাকসুদ (৫০) নামে এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ইসলামবাগ এলাকায় ভূমিকম্পের সময় একটি বাড়ির দেয়াল ধসে ফাতেমা নামে এক বছরের একটি শিশু মারা যায়।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে গাছ কাটার সময় ভূমিকম্প শুরু হলে সুজিৎ দাস (৩৮) গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দেশজুড়ে এ ভূমিকম্পে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকা, নরসিংদী ও গাজীপুরে আহতের সংখ্যা বেশি। গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানার শতাধিক শ্রমিক ভবন থেকে নামতে গিয়ে হুড়োহুড়ির মধ্যে আহত হন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী- স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যালে ১০ জন, ঢাকা মেডিক্যালে ১০ জন, তাজউদ্দীন মেডিক্যালে ১২ জন, নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ৪৫ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।