
মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই পাঁচটির মধ্যে চার আসনে প্রার্থিতাবঞ্চিতদের ক্ষোভ, সমালোচনা ও পৃথক কর্মসূচিতে দলীয় কোন্দল এখন প্রকাশ্যে। ফলে যশোরে বিএনপির রাজনীতি জমে উঠেছে সন্দেহ-অসন্তোষ ও শক্তির প্রদর্শনীতে।
যশোর–১ (শার্শা): চারজনের লড়াইয়ে এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধ
এই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তি। কিন্তু বাকি তিন প্রার্থিতাপ্রত্যাশী—শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন তাঁর প্রচারণায় নেই।
তৃপ্তির মনোনয়নে তৃণমূলে অসন্তোষ রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় নেতারা। তাদের অভিযোগ নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠে নামানো যাচ্ছে না।
যশোর–২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা): প্রার্থী ঘোষণা হতেই পাল্টাপাল্টি আবেদন–শোডাউন
এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হয়েছেন সাবিরা সুলতানা মুন্নী। তিনি এলাকাজুড়ে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালালেও বঞ্চিত প্রার্থীরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে কেন্দ্রীয় দপ্তরে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন।ঝিকরগাছা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান সামাদ নিপুন, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল সালাম এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান পৃথক শোডাউন কর্মসূচি করছে।এদিকে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী ডা. মোসলেহউদ্দিন ফরিদ নিজস্ব প্রচারণা চালিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
যশোর–৪ (বাঘারপাড়া–অভয়নগর) বিএনপি রাজনীতির পিছনে জীবন উৎসর্গ করা প্রার্থীকে নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের ডালপালা পাশাপাশি একাংশ তার পক্ষে নেই
এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার টি এস আইয়ুব। যুবদল নেতা নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ তাঁর পক্ষে মাঠে থাকলেও মনোনয়নপ্রত্যাশী ফারাজী মতিয়ার রহমান এখনো আইয়ুবের কর্মসূচিতে নেই।
যশোর–৬ (কেশবপুর): শ্রাবণ মাঠে, অন্য দুই প্রার্থী ক্ষুব্ধ
প্রার্থিতা পেয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ। তিনি দীর্ঘদিন পর এলাকায় ফিরে গণসংযোগ শুরু করলেও বঞ্চিত দুই প্রার্থী—অমলেন্দু দাস অপু ও আবুল হোসেন আজাদের অনুসারীরা প্রচারণায় সক্রিয় নন।
ব্যতিক্রম যশোর–৩ (সদর): পুরোপুরি ঐক্য
এই একমাত্র আসনটিতে কোনো কোন্দল নেই। সম্ভাব্য প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত একক মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় তাঁর নেতৃত্বে দলীয় ঐক্য দৃঢ় হয়েছে।
যশোর–৫ (মনিরামপুর) ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি
এ আসনে এখনো বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। আসনটি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা রশিদ আহমদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হতে পারে এমন গুঞ্জন রয়েছে।
তবে স্থানীয় নেতারা—উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদ মোহাম্মদ ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু ও ইফতেখার সেলিম অগ্নি—শেষ মুহূর্তে বিএনপি প্রার্থী ঘোষিত হবে—এ আশায় মাঠে সক্রিয়।
জেলা বিএনপির মন্তব্য
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু বলেন,কিছুক্ষেত্রে ক্ষোভ–হতাশা আছে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা হলে সবাই ধানের শীষের পক্ষে এক হয়েই মাঠে নামবে।’