
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, সেনাপ্রধান, স্বরাষ্ট্র সচিব, নির্বাচন কমিশনের সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব।
বৈঠকে তৎকালীন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী ঘোষণা করেন যে, তিনি নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ২৯০ আসনে বিজয়ী করতে সক্ষম। তিনি উল্লেখ করেন, মাঠ পর্যায়ে পুলিশের সর্বাধিক ফোর্স এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে এটি সম্ভব।
পুলিশ সদর দপ্তরের দ্বিতীয় তলায় থাকা ‘কপোতাক্ষ’ কক্ষে এ সময়ে তৈরি হয় দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও পরিকল্পিত ভোট ডাকাতির নীলনকশা। সেখানে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, স্ক্যানার ও প্রজেক্টর ব্যবহার করে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনের ভোটের প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করা হয়। এসবি-এর তৎকালীন ডিআইজি (পলিটিক্যাল) মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বে একটি গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচন করলে মাত্র ১৪ আসন পেতে পারে।’ এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পুলিশ সদর দপ্তরে একটি কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয় এবং ‘টিম জাবেদ’ নামে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।
‘টিম জাবেদ’-এর সদস্য ছিলেন: এসবির ডিআইজি (পলিটিক্যাল) মাহবুব হোসেন, সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি) মনিরুল ইসলাম, এসবির অ্যাডিশনাল আইজিপি (পলিটিক্যাল) এজেডএম নাফিউল ইসলাম, অ্যাডিশনাল ডিআইজি কাজী জিয়া উদ্দিন, এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, এআইজি (এলআইসি) এএফএম আনজুমান কালাম, এআইজি (অ্যাডমিন) মিলন মাহমুদ, এআইজি (আরঅ্যান্ডসিপি-১) মোহাম্মাদ মাহফুজুর রহমান আল-মামুন, স্টাফ অফিসার টু আইজিপি মাসুদ আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুনসুর আলম কাদেরী এবং কাজী মো. সালাহউদ্দিন।পুলিশের একটি কর্মকর্তা, যিনি ঘটনাটি কাছ থেকে দেখেছেন, জানান যে, জাবেদ পাটোয়ারী পুরো ‘অপারেশনটি’-এর দায়িত্ব নিয়ে এক ধরনের বার্গেইন করেছিলেন এবং এটি মাঠ পর্যায়ে কার্যকর করতে নীলনকশা প্রস্তুত করা হয়।