
রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পাইটখালি গ্রামের এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি মোঃ হাবিবুর রহমান নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা প্রশাসক রাজশাহীসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে নির্যাতন করে আসছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা হলেন—পাইটখালি গ্রামের বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী মোঃ রাকিবুল ইসলাম (২৪) ও রাহান (৩৫), পিতা আব্দুর রাজ্জাক, এবং কামানী গঙ্গারামপুর গ্রামের ওয়ার্ড নং ৪-এর মেম্বার সোহেল (৪০)। হাবিবুর রহমানের দাবি, তিন বছর আগে রাকিবুল ইসলাম অবৈধ ব্যবসা ও কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত থাকায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে এক দিপ্তো নামের সোর্সের মাধ্যমে গ্রেফতার করে। পরে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর রাকিবুল ওই দিপ্তোকে মারধর করে জোর করে স্বীকার করায় যে হাবিবুর নাকি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করেছে। সেই থেকে শুরু হয় তার ওপর প্রতিশোধমূলক নির্যাতন।
হাবিবুর রহমান অভিযোগে জানান, অভিযুক্তরা বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। তরা একাধিকবার তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে, যার ফলে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। পরবর্তীতে তার মুদির দোকান ও চায়ের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে হাবিবুর রহমান ও তার পরিবারকে ঘর থেকে উচ্ছেদ করেছে।
তিনি আরও জানান, তার ১৫ বছর বয়সী সন্তানকে স্কুল, প্রাইভেট ও কোচিংয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে, এমনকি স্কুলে যেতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। তার শ্বশুর-শাশুড়িকেও নিয়মিত হেনস্তা করা হয়, আর তার শ্যালকের মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।
প্রতিবন্ধী হাবিবুর রহমান বলেন, তার দুটি কিডনি বিকল হয়ে গেছে এবং নিয়মিত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। কিন্তু অভিযুক্তরা এখন তার চলাফেরায়ও বাধা দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত পাঁচ দিন ধরে তিনি ও তার পরিবার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কারণ অভিযুক্তরা তাদের ঘরবাড়ি দখল করে নিয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে, অভিযুক্তরা তার কাছে দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করছে এবং বলেছে, টাকা দিলে আর কোনো সমস্যা করবে না। কিন্তু দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী হওয়ায় এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। সম্প্রতি তারা তার লিজকৃত ফসলি জমিও জোরপূর্বক দখল করে পটল ক্ষেতের ফসল বিক্রি করে দিয়েছে।
সবশেষে, গত ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে অভিযুক্তরা তার শ্বশুর রুববানকে ডেকে জোরপূর্বক একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করায়, যেখানে পরবর্তীতে জানা যায় যে সেখানে পাঁচ লক্ষ টাকার চুক্তি লিখে রাখা হয়েছে।
হাবিবুর রহমান জানান, তিনি গত ৩০ সেপ্টেম্বর চারঘাট মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও অভিযুক্তরা বিএনপির প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি জেলা প্রশাসক রাজশাহী, রাজশাহী পুলিশ সুপার, ডিআইজি রাজশাহী রেঞ্জ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পুলিশ মহাপরিদর্শকের নিকটও একই আবেদন পাঠিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী তার স্ত্রীসহ আমাদের কাছে এসেছিলেন। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। সেইসাথে এমন গুরুতর বিষয়ে চারঘাট থানা অভিযোগ পাওয়ার পরেও কেন ব্যবস্থা নেয়নি, সেটিও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত মোঃ রাকিবুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “হাবিবুর রহমান রাজনৈতিকভাবে আমাদের পরিবারকে হেয় করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। আমরা কারও জমি দখল করিনি, কারও ওপর হামলাও করিনি। তিনি স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন লোকের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে এসব নাটক সাজিয়েছেন।”
তবে স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এখন অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।