
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোরের আলোয় এখনও কুয়াশা ঘন হয়ে আছে। জানালার পাশে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতে গিয়ে দেখেন টেবিলের ওপর ছড়ানো অনেক গুলো সংবাদপত্র। সেই সংবাদপত্রের কয়েকটি শিরোনাম যেন তার হৃদয়ে ঝড় তুলেছে—“সত্য প্রকাশে বাধা” “সত্য যখন মিথ্যার কাছে পরাজিত হয়” “খুনিরাও যখন আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে পার পেয়ে যায়” “রক্ষক যখন ভক্ষকে পরিনত হয় সমাজ তখন অসহায় হয়ে পড়ে” চারিদিকে যখন অপ-সাংবাদিকতার বলয় তৈরি হয়। দেশপ্রেমিক সাংবাদিকরা তখন আহত হয়ে দেশকে রক্ষা করার পথ খোঁজে। এই হারিয়ে যাওয়া পথের তালাশে এগিয়ে রয়েছে আমার প্রিয় একজন সাংবাদিক এসএম উজ্জ্বল হোসেন। তিনি গত দুই যুগের অধিক সময় ধরে লেখনীর ভাষায় সমাজের অসংগতি তুলে ধরতে গিয়ে জেল জুলুম অত্যাচার নিপিড়নের স্বীকার হয়েছেন।স্বৈরাচার সরকারের আমলে আওয়ামী দোসরদের অপরাধের তথ্যচিত্র প্রকাশ করায় অত্যাচারের কারণে জেল জুলুম নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। তাতে পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায়ত্ব জীবন কাটাতে হয়েছে এখনো চলমান রয়েছে এধারা।পত্রিকার পাতায় লেখা বাক্যগুলোর দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে মনে হয়, যেন নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখছেন সেখানে। যা সমাজের অসংগতি যার সাথে জীবনের বিরুদ্ধে এক চলমান যুদ্ধ।
অবিসাংবাদিত এক মানুষ
নাম এসএম উজ্জ্বল পেশায় সাংবাদিক। প্রতিদিন ছুটে বেড়ান খবরের পেছনে— কখনো থানায়, কখনো হাটে, কখনো কোনো ভাঙা ঘরের কান্নায় দুঃখী মানুষের দ্বারে।
মানুষের দুঃখ-কষ্ট তার কলমে উঠে আসে কিন্তু তার নিজের ক্লান্তি, নিজের ক্ষুধা বা দুঃখ নিয়ে লেখার সময় হয় না তার।বিকেল গড়ায়, সন্ধ্যা নামে। শহরের বাতি জ্বলে উঠলে তিনি তখনো মাঠে বা কর্মে।
রাতে বাড়ি ফিরতে হয়ে যায় গভীর রাত, ছেলেরা তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন প্রায় দেখাই মেলেনা তাদের। স্ত্রীর মুখে ক্লান্তির ছোঁয়া, মায়াবী চোখে অবসাধের হৃদয়।স্ত্রীর রোজকার জিজ্ঞাসা আজও দেরি করলে?”প্রতি উত্তর খবরের সন্ধানে কখন যে সময় চলে যায় বুঝতে পারিনা, কাল থেকে আর এমনটি হবে না।স্ত্রীর আক্ষেপের কথা তুমি মানুষকে আলো দাও, কিন্তু নিজের জন্য শুধুই অন্ধকার? একজন স্ত্রীর কতটা ত্যাগ সংগ্রামের মোকাবিলা করতে হয় সেই স্ত্রীই জানে যার আমার মত একজন সাংবাদিক স্বামী রয়েছে। একজন মানুষ গণমাধ্যমের এই মহান পেশায় যুক্ত থাকতে স্ত্রীই সমর্থন ছাড়া কখনোই সম্ভব নয়। স্ত্রীর হাজারো অভিযোগ থাকা সত্বেও কোনো উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে চলেন শুধু মৃদু হাসেন আর বুকে চাপা দিয়ে কষ্ট সয়ে চলেন। সেই হাসিতেই লুকিয়ে থাকে হাজার প্রশ্নের উত্তর, দায়িত্ব তাকে দমিয়ে রাখে, ভালোবাসা আর নীরব ত্যাগ।
জীবনের ভার ও পেশার টানাপোড়েন কতোটা চ্যালেঞ্জিং শুধু সেই সাংবাদিকই বলতে পারেন যিনি দেশের জন্য কাজ করেন।
উজ্জ্বলও তার ব্যতিক্রম নয় তিনি জানেন,সত্য বলা সহজ নয় মিথ্যার সাথে লড়াই করা এক আহত সাংবাদিক। অনেক সময় অচেনা নাম্বার থেকে ফোন আসে কেউ কেউ সত্যের উল্টোটা বোঝাতে চেষ্টা করেন, ব্যতিরেকে আবার কেউ ভয় দেখাতেও পিছপা হয়না এসব কিছু উপেক্ষা করে সত্যের পথে অবিচল থেকে পথ চলা।
তবু তিনি থামেন না। তিনি বিশ্বাস করেন সত্য একদিন নিজের জায়গা খুঁজে নিবেই।
অফিসে সহকর্মীরা বলেন একজন সৎ সাহসী সাংবাদিক যিনি সত্যের সাথে আপোস করেননা তিনি আমাদের উজ্জ্বল ভাই সুন্দর ভাবে সাবলীল উপস্থাপনের মাধ্যমে তুলে ধরেন সমাজের অসংগতি। প্রশংসা করে বলেন আপনি এত নরম মনের মানুষ হয়ে সাংবাদিকতা করেন কীভাবে?
তিনি মুচকি হেসে জবাব দেন—
“কলমে কালি আছে, আগুন নয় তাই পোড়াতে নয়, জ্বালাতে চাই। সমাজের কলুষিত মুক্তই আমার শপথ।
নীরব রাতের লেখনী সংগ্রামঃ
বহুরাত প্রজ্বলিত বাতির নিচে বসে কত অসংগতির ইতিহাস, সমাজ সচেতন মুলক রিপোর্ট নিঃশব্দে তৈরি করেছে যা আলো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের মনে।
বাইরে বৃষ্টি পড়ে,ভেতরে মন ভিজে ওঠে অদ্ভুত এক চিন্তায় আমি সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছি, কিন্তু নিজের ঘরটা কি একটু একা হয়ে যাচ্ছে না? এটা ভাবার সময় টুকু হয়নি তাই নানা বিড়ম্বনায় কেটে যাচ্ছে জীবন। এরই মাঝে বুকের অন্ধকারে জমেছে ভয়ানক এক বিপত্তি। স্বাভাবিক জীবনধারণের ক্ষমতাটুকু হ্রাস পেয়েছে, এইতো কিছুদিন আগে জানতে পেরেছি পিত্তথলিতে পাথর চিকিৎসা চলমান।যে পেশাটি প্রায় দুই যুগের অধিক সময় হলো জানিনা সততার জীবনে যেখানে সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হয় সেখানে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আদৌও সম্ভব হবে কিনা জানিনা? সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্যই এই লড়াই।
আলোর মানুষ আমাদের
উজ্জ্বলকে কখনো কঠোর হতে দেখিনি। তিনি জানেন, মানুষকে বদলাতে হলে প্রথমে মানুষকে বুঝতে হয়।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার কলম যেমন ধারালো, তেমনি কারও কষ্টের গল্প লিখতে গেলে তার চোখও ভিজে ওঠে অনায়াসে।তাই সহকর্মীরা তাকে বলে আপনি সংবাদ লিখেন না, মানুষের গল্প লেখেন।একদিন সন্ধ্যায় স্ত্রী চুপচাপ বললেন তোমার লেখা হাজার মানুষের হৃদয়ের কথা এভাবেই জীবন যতদিন আছে লিখে যাবে আমি আছি তোমার পাসে সব সময়।সাংবাদিক হাসতে হাসতে জানালার দিকে তাকিয়ে দেখলেন সূর্য ডুবে যাচ্ছে, কিন্তু তার মুখে তখনও আশার আলো।রাতের শেষে যখন তিনি শেষ লাইনটা লেখেন “অন্ধকার যত গভীরই হোক আলো নিভবে না নতুন সূর্য হয়ে আলো ছড়িয়ে দিবে দিকদিগন্তে।
তিনি বুঝতে পারেন এই বাক্য শুধু প্রতিবেদন নয়, তার নিজের জীবনও বটে।
মোঃ উজ্জ্বল হোসেন সেই মানুষ, যিনি অন্যের জন্য আলো জ্বালাতে গিয়ে নিজের ভেতরের অন্ধকার মুক্ত হতে চান।
যে দীপের নাম সত্য, ভালোবাসা, আর মানবতা।
মোঃ উজ্জ্বল হোসেন, লেখক সাংবাদিক মানবাধিকার কর্মী।