
তন্ময় দেবনাথ স্টাফ রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সেই লক্ষ্যে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ইতোমধ্যে তৎপর বিএনপি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় প্রবীণদের পাশাপাশি তরুণ, যোগ্য ও কর্মীভিত্তিক নেতৃত্বকেও বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, আগামী নির্বাচনে জনগণের আস্থা অর্জন ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় তরুণদের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ, আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকেই মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। মানদণ্ড হবে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, নির্বাচন করার সক্ষমতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং বিগত আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ কেমন ছিল— তা গভীরভাবে বিবেচনা করা হবে।
রাজশাহী বিভাগেও ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘুরপাক খাচ্ছে। রাজশাহী-৬ আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক ও চারঘাট উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান প্রবীণ নেতা আবু সাঈদ চাঁদ, তরুণ নেতা সাবেক জিএস রাজশাহী সিটি কলেজ, জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর ও সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন এবং রাজশাহী জেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তরুণ নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল ও রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বজলুর রহমান, বাঘা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান মানিক, ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দেবাশীষ রায় মধু।
প্রবীন রাজনীতিক নেতা জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সাইদ চাঁদ বলেন,দল আমাকে ভালোভাবে চেনে, আমিও দলকে জানি। রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা, একাধিক মামলা, একাধিক বার কারাবরণ ও জনপ্রিয়তার জায়গা থেকে আমি সব সময় দলের জন্য নিবেদিত ছিলাম। তরুণরা রাজনীতিতে আসুক এটা আমি স্বাগত জানাই। তবে অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার সমন্বয়েই নির্বাচনে বিএনপি সফল হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনায় থাকা মনোনয়ন প্রাত্যাশী প্রার্থীরা বলেন।
সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, বিএনপি এখন জনগণের দলে পরিণত হয়েছে। রাজশাহীর মানুষ দুর্নীতি, দমন-পীড়ন ও গনবিরোধী নেতৃত্ব থেকে মুক্তি ও শিক্ষিত ক্লিন ইমেজের প্রার্থী চাই । আমি স্বৈরাচারী বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি ও জনগণের দাবি আাদায়ে সামাজিক আনন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলি, আওয়ামী শাসন আমল ১৯৯৭ সালে বোয়ালিয়া থানায় গ্রেপ্তার ও মধ্যেযুগীয় কায়দায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার সহ একাধিক মামলা, ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলন কারাবাস থেকেছি। দলের প্রতি অনুগত থেকে কাজ করছি, তবে মনোনয়নে ক্ষেত্রে দল যে সিদ্ধান্ত নিবে সেটাই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত , দল আমাকে মূল্যায়ন করলে ও নির্বাচনচিত হলে সেই বিজয় হবে বিএনপির সকল নেতাকর্মী ও রাজশাহী- ৬ আসনের জনগনের।
সাবেক যুবদল নেতা ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল বলেন, আমরা চাই রাজনীতি হোক জনগণের কল্যাণে। বিএনপির নতুন প্রজন্ম বিশ্বাস করে, সংগঠনের শক্তি আসে কর্মীর বিশ্বাস থেকে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আন্দোলন-সংগ্রামে সর্বদা সক্রিয় থেকেছি এবং দুঃসময়ে রাজশাহীর নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। দল যদি মনোনয়ন দেয়, তাহলে প্রতিটি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবো।
রাজশাহী-৬ আসনের রাজনীতিতে তাই এখন প্রবীণ ও তরুণ প্রজন্মের মিশ্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। সবাই এখন অপেক্ষায়— কে হচ্ছেন রাজশাহী-৬ আসনে ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী?
দ্বিতীয় পর্বে রাজশাহী-৫ আসন নিয়ে বিস্তারিত আসছে।