
বিশেষ প্রতিনিধি
নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী গ্রামে ভয়ংকর মানব পাচার সিন্ডিকেট চক্রের ফাঁদে পড়ে একই গ্রামের শিমুল শেখ নামের এক যুবকের জীবন বিপন্ন পথে। এব্যাপারে ভুক্তভোগী শিমুলের মা মোছাঃ পারভীন বেগম বাদি হয়ে মানব পাচারকারী সিন্ডিকেট চক্রের ২ সদস্যর নাম উল্লেখ করে নড়াইল আদালতে মানব পাচার আইনে একটি মামলা করেছেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই) যশোরকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, আসামীগণ সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী, মানবপাচার অপরাধ সংগঠনে প্ররোচনাকারী, ষড়যন্ত্রকারী, অবৈধ আটককারী ও মুক্তিপণ আদায়কারী। ওই চক্র বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চল থেকে চাকুরী ও ভিসা দেওয়ার প্রলোভণ দিয়ে বিভিন্ন লোককে বিভিন্ন দেশে মানব পাচার করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে। তারি ধারাবাহিকতায় ভুক্তভোগী শিমুল নামে একজনকে সৌদি আরব পাঠিয়ে ড্রাইভারী চাকুরি দেওয়ার প্রলোভণ দিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের দু’জনে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভুক্তভোগী বাদির ছেলেকে সৌদি আরব পাচার করে দেন। পরে বাদির ছেলেকে সৌদি আরব আটক রেখে নির্যাতন করে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করে সৌদি আরব অচেনা নগরে ছেড়ে দেয়।। ফলে বাদির ছেলে মোঃ শিমুল শেখ সৌদি আরব বর্তমান পালিয়ে বেড়াচ্ছে এবং খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছে। যে কারনে এলাকাবাসীর মাধ্যমে মানব পাচারকারী চক্রের ওই দুই সদস্যকে বাদির ছেলেকে ফেরত নিয়ে আসাসহ প্রতারণার মাধ্যমে গ্রহনকৃত টাকা ফেরত পেতে একাধিক বার চাপ প্রয়োগ করার পর উল্টো বাদি ও স্বাক্ষীদের ওই প্রতারক চক্র হত্যাসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করার হুমকি দিয়ে আসছে। যে কারণে ভুক্তভোগী বাদি কোন কুলকিনা না পেয়ে বিজ্ঞ আদালতে ওই মানব পাচারকারী চক্রের দুইজনের নামে ন্যায় বিচার চেয়ে মামলা করেছেন। মামলায় উল্লেখিত আসামিরা হলো নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী গ্রামের মোঃ খোরশেদ মোল্লার ছেলে মোঃ খাইরুল ইসলাম ও মোঃ শরিফুল ইসলাম। উল্লেখ বাদি মামলা করার পর ওই এলাকার জিয়াউর রহমান নামে কতিপয় বিএনপি নেতা মানব পাচারকারী চক্রের ওই দুই সদস্যদের পক্ষ নিয়ে বাদি ও বাদির পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। ফলে মামলার বাদি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সৌদি আরব পাচারের শিকার শিমুল নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী গ্রামের জাফর শেখের ছেলে।
এবিষয়ে মামলায় উল্লেখিত আসামি মোঃ খাইরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, শিমুলকে সৌদি পাঠিয়েছিলাম, এখন সমস্যা যা হচ্ছে রাতে নিলিবিলি আপনার সাথে কথা বলবো। এবিষয়ে বিএনপি নেতা জিয়াউর রহমান মুঠোফোনে বলেন, খাইরুল, শরিফুল আমার বংশীয় ছেলে যে কারনে তাদের পক্ষে আমার থাকতে হয়। তা ছাড়া মামলা হয়েছে এটা সঠিক মামলাটি তদন্তে রয়েছে, আমার কাছে মনে হয়েছে খাইরুল শরিফুল এরা কোন অপরাধ করেনি শিমুল বিদেশ গেছে সেখানে সে কাজ কর্ম করছে সে বিপদে আছে এটা মিথ্যা কথা। এব্যাপারে যশোর পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মামলাটি তদন্ত চলছে তদন্তের পর সত্যতা বেরিয়ে আসবে।