বিশেষ প্রতিনিধি
অভয়নগরে নওয়াপাড়ার রবিউল হোসেন রবির ক্ষমতার খুঁটির জোর কোথায়?
যশোরের অভয়নগরের রাজনীতি ও শ্রমিক সংগঠনের অঙ্গনে এক নাম দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত রবিউল হোসেন রবি। নওয়াপাড়া মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি, সাবেক পৌর মেয়র, এক সময়ের সাধারণ ট্রাক চালক আজ তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় তার এই অসীম ক্ষমতার উৎস কোথায়?
ট্রাক ড্রাইভার থেকে “কোটি টাকার মালিক” তথ্য অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী আমজেদ মোল্লার বাড়িতে বাজার-সদাই ও সাধারণ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন রবি। পরে ট্রাক ড্রাইভার হিসেবে জীবনের পথচলা শুরু। কিন্তু ভাগ্যের পরিক্রমায় হঠাৎ করেই তিনি মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি পদে বসেন। সেই পদ পাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় ক্ষমতার দাপট আর টাকার পাহাড় গড়ার খেলা।
আ.লীগ–বিএনপি দুই দলের “ছত্রছায়ায় রামরাজত্ব” যদিও তিনি নামেমাত্র বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তবে বাস্তবে গত ১৭ বছর তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায়। সাবেক সংসদ সদস্য রনজিত রায়, শেখ হেলাল থেকে শুরু করে সাবেক সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানের সখ্য তাকে রেখেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে বিএনপির হাজার হাজার নেতা–কর্মী জেল-জুলুম, মামলার ভেতর থাকলেও রবির বিরুদ্ধে একটিও মামলা হয়নি।
অবৈধ চাঁদাবাজি ও ইউনিয়ন দখলের অভিযোগ স্থানীয় সূত্র জানায়, নওয়াপাড়া মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে প্রতিদিন অবৈধ চাঁদাবাজির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন রবি ও তার সহযোগীরা। আওয়ামী লীগ নেতা রবিন অধিকারী ব্যাচার সঙ্গে যোগসাজশ করে ইউনিয়নকে কুক্ষিগত করে রেখেছেন বহু বছর ধরে। অভিযোগ আছে, শ্রমিকদের কষ্টার্জিত টাকাই পরিণত হয়েছে রবির ব্যক্তিগত গাড়ি–বাড়ি ও অঢেল সম্পত্তিতে।
“মেয়র” হওয়ার পেছনে ভাগ্যের চাকা আওয়ামী লীগের গ্রুপিং আর অঘোষিত সমর্থনের সুযোগে একবার পৌর মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নওয়াপাড়া পৌরসভাকেও বানান দুর্নীতির আখড়া। পৌর তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আজও ঘুরে বেড়াচ্ছে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। আজও বহাল তবিয়তে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও রবি তার প্রভাবশালী অবস্থান অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। এবার আবার সামনে নওয়াপাড়া মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন। অভিযোগ উঠেছে তিনি কালো থাবা বাড়িয়ে আবারও ইউনিয়নকে নিজের দখলে রাখতে মরিয়া।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন অভয়নগরের সাধারণ মানুষ ও বিএনপির একাধিক নেতা প্রশ্ন তুলেছেন
যে ব্যক্তি আওয়ামী লীগের আশ্রয়ে থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক হলেন, বিএনপি নাম ব্যবহার করে টিকে আছেন, দুর্নীতির পাহাড় গড়ে এখনো বহাল তবিয়তে আছেন তিনি যদি আইনের বাইরে থেকে যান, তবে রাজনীতির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে? রবিউল ইসলাম রবির ক্ষমতার আসল উৎস টাকা, রাজনৈতিক যোগসাজশ নাকি আরও অজানা রহস্য তা বের করা এখন সময়ের দাবি। আর সেই উত্তর খুঁজছে অভয়নগরের সাধারণ মানুষ। এব্যাপারে সাবেক মেয়র ও নওয়াপাড়া মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল হোসেন রবি তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ আমাকে ক্ষতি করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। আমার একসময় টাকা পয়সা ছিলোনা স্বীকার করে বলেন, অনেক কষ্ট করে আমি সম্পদ করেছি কোন দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ করিনি।