নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর পার্শ্ববর্তী জেলা রাজশাহীর তানোর উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আওয়ামী যুবলীগের ছত্রছায়ায় থেকে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলেন শাফায়েত হোসেন মাবুদ (৩৫)। বর্তমানে তিনি হঠাৎ করেই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল বিএনপির তানোর পৌরসভা সচিব পদে প্রার্থী হয়েছেন।
অতীতে যুবলীগের ঘনিষ্ঠ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাবুদ দীর্ঘদিন তানোর থানা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মো. লুৎফর রশিদ হায়দার ময়নার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই সময়ে তিনি নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। ফলে এলাকায় তার নাম দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত ছিল।
হঠাৎ বিএনপির পদপ্রার্থী
দলীয় সূত্র বলছে, সম্প্রতি মাবুদ বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে পদ পাওয়ার জন্য সক্রিয় হয়েছেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবক দল তানোর পৌর কমিটির সদস্য সচিব পদে প্রার্থী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করছেন। এ খবর প্রকাশ পেতেই উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
নেতাকর্মীদের ক্ষোভ
স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“যে ব্যক্তি অতীতে প্রতিপক্ষের হয়ে অপকর্মে লিপ্ত ছিল, সে আজ এসে দায়িত্বশীল পদ পেতে চাইছে। এতে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।”
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যারা বিএনপির আদর্শে অবিচল থেকে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিলে সংগঠনে বিভক্তি তৈরি হবে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন
এলাকার সাধারণ মানুষেরাও প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলেন, “মাবুদ একসময় যুবলীগের হয়ে কাজ করেছে। তখন নানা অন্যায়ে তার নাম শোনা যেত। এখন সে বিএনপির পদপ্রার্থী। তাহলে কি রাজনীতি কেবল টিকে থাকার জন্য দল বদলের খেলা?”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে দলবদল নতুন কিছু নয়। তবে অতীতের বিতর্কিত চরিত্রের মানুষকে হঠাৎ গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে তা দলের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে তানোরে মাবুদের এই পদপ্রার্থিতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তাল। সবার নজর এখন স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্বের দিকে—তারা শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন।