নিজস্ব প্রতিবেদক
নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে। একটি ট্রাক ক্রয় করা বাবদে জমা দেয়া ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যশোর শহরতলীর তরফ নওয়াপাড়ার ইমরান মিয়া ইমু বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) এই মামলাটি করেন। বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রহমত আলী মামলাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বিশেষ পুলিশ সুপার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে নির্দেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন-নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল মতলুব আহমেদ, তার স্ত্রী কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা আহম্মদ ও ছেলে কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুল মুসাব্বির আহম্মেদ।
বাদী মামলায় বলেছেন, ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নিটল-নিলয় গ্রুপের যশোর শহরের ঢাকা রোড তালতলা অফিস থেকে ৩৭ লাখ ২৬ হাজার টাকা মূল্যে শর্তসাপেক্ষে কিস্তিতে একটি ট্রাকের চ্যাসিস ক্রয় করেন। ওই সময়ে দুই লাখ টাকা অগ্রিম জমাদানসহ ৬০টি কিস্তিতে বাকি টাকা পরিশোধের শর্তে ট্রাকটি নেন। তবে ইন্সুরেন্স ও রেজিস্ট্রেশন বাবদে ওই দুই লাখসহ মোট তিন লাখ ১৬ হাজার ৩৪৮ টাকা কোম্পানিতে প্রদান করেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন কিস্তির মাধ্যমে কোম্পানিকে তিনি মোট ২৪ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৬ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু এরপরই ওই কোম্পানির ঢাকা রোড তালতলা অফিসের নুরুজ্জামান, আসাদ-জুয়েল ও রায়হান ট্রাকটি জব্দ করে অন্যাত্র বিক্রি করে দেন। বিক্রিকালে বাদীর সাক্ষর জালজালিয়াতির মাধ্যমে করে দেন ওই ৩ জনে। পরবর্তীতে বাদী নুরুজ্জামান, আসাদ-জুয়েল ও রায়হানের কাছে ট্রাকটির কথা জানতে চাইলে তারা ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। বাদী ঢাকায় গেলেও প্রধান কার্যালয়ের ওই ৩ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন। ওই সময়ে বাদী কোতোয়ালি থানায় গিয়েও কোন আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি। কারণ কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা আহম্মদ তৎকালিন আওয়ামী লীগ সরকারের কুমিল্লা ২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ফলে তার নির্দেশে থানা মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বাদী এই মামলাটি করেছেন।