নিজস্ব প্রতিবেদক: মোঃ জালাল উদ্দিন।
হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের তিন সদস্যকে অনুমতি ছাড়া দাড়ি রাখার অভিযোগে শাস্তিমূলকভাবে বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক ও ধর্মীয় মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে এটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে স্মারক নং-৪১৭৫/(আরও) জারি করা আদেশে বলা হয়, ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক দাড়ি রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে নিম্নবর্ণিত পুলিশ সদস্যরা লিখিত আবেদন দাখিল করেছিলেন। নির্ধারিত দিনে তারা পুলিশ সুপারের কাছে হাজির হলে দেখা যায়, ইতোমধ্যেই তারা দাড়ি রেখেছেন। কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই দাড়ি রাখায় তাদের প্রত্যেককে লঘুদণ্ড হিসেবে দুই দিন প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে ‘পিডি’ (Punishment Drill) প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্ত বদলি হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—কনস্টেবল দুলাল মিয়া (সদর কোর্ট), কনস্টেবল আব্দুল আউয়াল (জায়ারার হাট), ও কনস্টেবল ইনতিয়াজ হোসেন সুমন (মাধবপুর)।
তাদেরকে ২ দিনের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নির্ধারিত নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনমনে প্রতিক্রিয়া: ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। একজন পুলিশ সদস্য যদি দাড়ি রাখতে চান, তবে তাতে অনুমতির প্রয়োজন কেন—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। ধর্মীয় স্বাধীনতা সংবিধান স্বীকৃত একটি মৌলিক অধিকার। সেখানে এমন নির্দেশ কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।
বিশেষজ্ঞ মতামত: আইন ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষার যুক্তি থাকলেও, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ধর্মীয় চর্চা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে প্রশাসনের ভাবমূর্তিই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
উপসংহার: এই ঘটনায় পরিষ্কার হয়েছে—ধর্মীয় চর্চা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ভারসাম্য রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। বিষয়টি পুনঃপর্যালোচনা করে আরও মানবিক ও যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।